অস্তিত্ব সঙ্কটে ‘ইন্ডিয়া’ জোট, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বৈঠকে গরহাজির আপ ও ডিএমকে!

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে প্রথম বার বৈঠকে বসতে চলেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। তবে পূর্ণশক্তি প্রদর্শনের বদলে নির্বাচন পরবর্তী এই বৈঠকের আগে বিরোধী শিবিরের নড়বড়ে দশাই সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। মূলত কংগ্রেসকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে জোটের অন্দরের এই শরিকি কোন্দল, যা জোটের ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
শরিকি দ্বন্দ্বে দিশাহারা বিরোধী শিবির
কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্বের কারণে সোমবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বয়কট করেছে আম আদমি পার্টি (আপ) এবং ডিএমকে। আপের অভিযোগ, কংগ্রেস কেবল নিজেদের শক্তিবৃদ্ধির কথাই ভাবে এবং জোটধর্ম পালনে তারা ব্যর্থ। তামিলনাড়ুতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেই ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে শাসকজোটের শরিক টিভিকে-র হাত ধরেছে কংগ্রেস, যা স্ট্যালিনের দলের ক্ষোভের প্রধান কারণ। অন্য দিকে, কেরলে সিপিএম ও বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতার অভিযোগ তুলেছিল কংগ্রেস। এর প্রতিবাদে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির মতো শীর্ষ নেতারা এই বৈঠক এড়িয়ে যাচ্ছেন, বদলে পাঠানো হচ্ছে কেবল নামমাত্র প্রতিনিধিকে।
ক্ষমতাচ্যুত আঞ্চলিক দল ও জোটের সম্ভাব্য প্রভাব
২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশের সময় যে দলগুলি বিরোধী শিবিরের অন্যতম শক্তিশালী মুখ ছিল, গত তিন বছরে তাদের অনেকেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছেন যথাক্রমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এমকে স্ট্যালিন। নীতীশ কুমারের মতো নেতা ইতিমধ্যেই শিবির বদলে এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ঐক্যের বার্তা দিয়ে বৈঠকে যোগ দিলেও, আঞ্চলিক দলগুলির এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক অবক্ষয় এবং কংগ্রেসের দুর্বল ভাবমূর্তি জোটের রাজনৈতিক প্রভাবকে ক্রমশ ক্ষীণ করে তুলছে। গত দশ মাস ধরে শীর্ষ স্তরের কোনও বৈঠক না হওয়া এবং প্রধান শরিকদের এই প্রকাশ্য দূরত্ব আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় স্তরে কার্যকর বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার পথে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কংগ্রেসের তরফে ২৩টি দলের উপস্থিতির দাবি করা হলেও, বিরোধী ঐক্যের ফাটল যে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে তা এই শরিকি অনুপস্থিতি থেকেই স্পষ্ট।