দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, সাড়ে ৬ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার পাশাপাশি জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে!

দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, সাড়ে ৬ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার পাশাপাশি জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে!

পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও প্রশাসনিকভাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সূচনা করতে সোমবার রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সংহতির মাধ্যমে এই বৃহৎ স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু হওয়া পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এই সরকারি কর্মসূচির সমান্তরালে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় ভাঙন এবং নতুন সমীকরণ তৈরির জল্পনা তীব্র হয়ে উঠেছে।

সাড়ে ছয় কোটি মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ

মুখ্যমন্ত্রীর এই দিল্লি সফরের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক উদ্দেশ্য হলো রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন। এই প্রকল্প চালুর ফলে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ সরাসরি উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় আসবেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বয়ে চালু হওয়ায় বাংলার সাধারণ মানুষের বড় অঙ্কের চিকিৎসা খরচের বোঝা লাঘব হবে, যা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের ভাঙন ও দিল্লির নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

সরকারি কর্মসূচির বাইরে এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিল্লিতে অবস্থান করছেন। এরই মাঝে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীতে জড়ো হয়েছেন এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও আজ তাঁদের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যে শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহণের পর ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘নতুন তৃণমূল’, যার সংসদীয় নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিধায়করা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নমুখী নীতির সঙ্গে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল দলে যোগদানের ক্ষেত্রে উদারপন্থী নীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, সংগঠনকে এতটাই শক্তিশালী করতে হবে যাতে যে কেউই দলে আসুক না কেন, সে বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করতে পারে। ফলে, একদিকে স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পথ সুগম হচ্ছে, অন্যদিকে সংসদীয় স্তরে বিরোধী শিবিরের বড়সড় ভাঙন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *