বিজেপি-র বিরুদ্ধে বড় রণকৌশল! আজ দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

নতুন মোড়ে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি বৈঠক: অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বিরোধীরা
কলকাতার ক্ষমতার পালাবদলের আবহে সোমবার দিল্লিতে বসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রথম জাতীয় স্তরের এই রাজনৈতিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, ২৩টি বিরোধী দলের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠক ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
আঞ্চলিক দলের অস্তিত্ব ও চ্যালেঞ্জ
কেরালা, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতির সমীকরণকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে। সিপিআইএম ও ডিএমকের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোর নির্বাচনী ধাক্কা জোটের অভ্যন্তরীণ শক্তিতে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছে। এর পাশাপাশি তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে টিভিকে এবং কংগ্রেসের নতুন সমীকরণ সোমবারের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সর্বগ্রাসী নীতি’র মোকাবিলা। আঞ্চলিক দলগুলোকে ভেঙে ফেলার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা রুখতে যৌথ কৌশলের ওপর বিশেষ জোর দেবেন বিরোধী নেতারা।
জনস্বার্থ ও নাগরিক অধিকারই মূল সুর
শুধুমাত্র ক্ষমতার অঙ্ক নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষাও এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। বুলডোজার সংস্কৃতি, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষাক্ষেত্র ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ নীতির ব্যর্থতা—এই বিষয়গুলোকে হাতিয়ার করে কীভাবে দেশজুড়ে জনমত গঠন করা যায়, তা নিয়ে নীল নকশা তৈরি হতে পারে এই সভায়। সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিজেপি সরকারের জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করাই এখন ইন্ডিয়া জোটের প্রধান লক্ষ্য।