স্কুলে নারকীয় কাণ্ড! হোস্টেল থেকে পালাতে ৭ বছরের শিশুকে খুন, দুই নাবালিকার ছক দেখে স্তব্ধ পুলিশ

ব্লেড দিয়ে গলা কাটা আর বালতিতে মুখ চুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত! দুই নাবালিকার অপরাধের ছক দেখে শিউরে উঠলেন তদন্তকারীরা
কৃষ্ণনগরের এক বিদ্যালয়ের হোস্টেলে সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে খুনের ঘটনায় উঠে এসেছে এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ বিদ্যালয়েরই দুই নাবালিকাকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, বাইরে রঙিন জগতের হাতছানি আর হোস্টেলের কঠোর অনুশাসন থেকে মুক্তি পেতেই তারা এই নৃশংস খুনের পরিকল্পনা করেছিল।
হোস্টেল থেকে মুক্তির নৃশংস ছক
পুলিশি তদন্ত ও ধৃতদের ডায়েরি থেকে জানা গেছে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারা এবং সপ্তাহের মাত্র ৫ মিনিট বাড়ি কথা বলার নিয়ম দুই নাবালিকার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। হোস্টেল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। এই উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যেই তারা বেছে নেয় বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির একরত্তি ছাত্রীকে। শুক্রবার গভীর রাতে বাথরুম করানোর নাম করে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তারা এক নারকীয় কাণ্ড ঘটায়। প্রথমে জলভর্তি বালতিতে শিশুটির মুখ চুবিয়ে ধরে রাখা হয়, আর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয় পেন্সিল কাটার মেশিনের ব্লেড। খুনের পর শিশুটির হাতে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে তারা।
তদন্তকারীদের চোখে অপরাধের প্রবণতা
খুনের ঘটনায় ধৃত নাবালিকাদের ঠান্ডা মাথার মানসিকতা দেখে তাজ্জব পুলিশ। ডায়েরির পাতায় পাতায় হোস্টেল থেকে পালানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর চরম পরিণতির হুমকি লেখা ছিল। পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানিয়েছেন, ধৃতদের ধারণা ছিল—এই ধরণের একটি বড় ঘটনা ঘটালে হোস্টেল থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে। ঘটনাস্থল থেকে ডায়েরি ও খুনে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ধৃত দুই ছাত্রীকে জুভেনাইল কোর্টে তোলা হয়েছে এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করেছে পুলিশ। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।