১২ বছর পর সরকারি অনুষ্ঠানে ডাক! শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’-এর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়

মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে দীর্ঘ ১২ বছরের বঞ্চনার অভিযোগ গায়িকা ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের
সরকার পরিবর্তনের পরেই রাজ্যের নতুন প্রশাসনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। সেই আবহেই সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হয়েছিলেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ এক যুগের বঞ্চনার ইতিহাস এবং সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ার যন্ত্রণার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি জানিয়েছেন তিনি। ঋদ্ধির দাবি, বিগত শাসনামলে শিল্পীমহলে যে রাজনীতিকরণ এবং পক্ষপাতিত্বের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার কারণেই তিনি ও তাঁর মতো আরও অনেক শিল্পীকে দীর্ঘ সময় ব্রাত্য থাকতে হয়েছে।
অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার ও জনমতের গুরুত্ব
নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ঋদ্ধি জানান, লিখিত আকারে অভিযোগ জানানোর মাত্র এক দিনের মধ্যেই তাঁর ডাক আসে। মুখ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতায় তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। তাঁর কথায়, দীর্ঘ সময় ধরে যে শিল্পীরা রাজনৈতিক কারণে ‘নিষিদ্ধ’ থাকার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, তাঁদের সমস্যার সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও মন দিয়ে অভিযোগ শোনার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে ভরসা জোগাচ্ছে। কেবল বিশিষ্টরাই নন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষও তাঁদের জমি ও দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে এই দরবারে পৌঁছাচ্ছেন এবং সমাধান পাচ্ছেন।
সুষ্ঠু প্রশাসনিক আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন
জনতার দরবারে উপস্থিত কর্মীদের ব্যবহার এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি বিনয় দেখে ঋদ্ধি রীতিমতো অভিভূত। তিনি মনে করেন, বিগত সরকারের আমলে সরকারি দপ্তরে যে ঔদ্ধত্যের সংস্কৃতি দানা বেঁধেছিল, তার থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে বর্তমান প্রশাসন। প্রবীণ নাগরিকদের সমস্যার প্রতি প্রশাসনিক গুরুত্ব এবং সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রাজ্যজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিচ্ছে। ঋদ্ধির প্রত্যাশা, আগামী দিনে শিল্পীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি। সরকারি কাজ বা অনুষ্ঠানে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একাধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে সকলকে সমান সুযোগ দেওয়ার এই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।