৫ ঘণ্টার চরম নাটক শেষে গ্রেপ্তার জোড়াসাঁকোর তৃণমূল কাউন্সিলর!

ধর্ষণ, তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে অবশেষে কলকাতা পুলিশের জালে ধরা পড়লেন জোড়াসাঁকোর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন। রবিবার সকালে কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুরনো আক্রোশ ও নয়া অভিযোগ
এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বছর তিনেক আগের একটি নাবালিকা নিগ্রহের মামলা। অভিযোগ, বর্তমানে কলেজ পড়ুয়া সেই তরুণীকে শনিবার সন্ধ্যায় জসিমউদ্দিন ও তাঁর দলবল ব্যাপক মারধর করে এবং পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ ও হুমকি দেয়। এমনকি প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে পাশের বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বেআইনি কাজ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো, শ্লীলতাহানি এবং সম্মতি ছাড়া নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে আনার মতো একাধিক কড়া ধারায় এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারিতে নাটকীয় মোড় ও জনরোষ
রবিবার ভোরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ জসিমউদ্দিনের বাড়িতে পৌঁছলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে চূড়ান্ত নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পুলিশ ও বাহিনীকে বাড়ির বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ভেতর থেকে মূল ফটক না খোলায় শেষ পর্যন্ত চাবিওয়ালা ডেকে দরজা খুলতে বাধ্য হয় পুলিশ। তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়তে থাকেন।
একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এবং এই গ্রেপ্তারির ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এলাকার মানুষের ক্ষোভ ও প্রকাশ্য জনরোষের জেরে বর্তমানে গোটা কলেজ স্ট্রিট ও জোড়াসাঁকো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সজাগ রয়েছে প্রশাসন।