বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ভয়াবহ আতঙ্ক! ইংল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্পের কাছে গুলিবর্ষণ, আহত ৯

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রক্ত ঝরল ক্যানসাস সিটিতে, নিরাপত্তা নিয়ে উঠল বড় প্রশ্ন
ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই বড়সড় নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটল আমেরিকায়। ক্যানসাস সিটিতে ইংল্যান্ড ফুটবল দলের নির্ধারিত বেস ক্যাম্পের অদূরে অতর্কিত গুলিবর্ষণে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। মেগা টুর্নামেন্ট শুরুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমী ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ঘাটতির আশঙ্কা
শনিবার ভোর চারটে নাগাদ ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ৯ জনের অবস্থাই বর্তমানে স্থিতিশীল। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ক্যানসাস সিটি বোর্ড অব পুলিশ কমিশনার্সকে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছিল। বিপুল এই অর্থ ব্যয়ের পরেও কীভাবে জনবহুল এলাকায় এমন হামলা সম্ভব হলো, তা নিয়ে এখন তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার সময় ইংল্যান্ড দল বেস ক্যাম্পে ছিল না, তারা সেই মুহূর্তে ফ্লোরিডায় প্রীতি ম্যাচ খেলায় ব্যস্ত ছিল।
বিশ্বকাপের আবহে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভোগান্তি
শুধু গোলাগুলির ঘটনাই নয়, বিশ্বকাপের আগে আমেরিকায় প্রবেশ নিয়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের। ইরাক জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার আয়মেন হোসেনকে শিকাগো বিমানবন্দরে সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি দলের ফটোগ্রাফার তালাল সালাহকে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একদিকে বেস ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি এবং অন্যদিকে বিমানবন্দরে খেলোয়াড়দের হয়রানি—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ও আতিথেয়তা নিয়ে ফিফা ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর বড়সড় চাপের সৃষ্টি হয়েছে। ১৩ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলা না হলে টুর্নামেন্ট চলাকালীন আরও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।