‘অভিমান না করে ফোনেই মিটিয়ে নেওয়া যেত’, বিরহ ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে অকপট শুভশ্রী

যিশু সেনগুপ্ত এবং সৌরভ দাসের নতুন প্রোডাকশন হাউজ ‘হোয়াই সো সিরিয়াস’-এর প্রথম প্রযোজনা ‘অভিমান’ চলচ্চিত্রের প্রচারণায় এসে সম্পর্ক, বিরহ ও কর্মজীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। মধ্য কলকাতার এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এই প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে সিনেমাটির মূল ভাবনার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবনদর্শনও তুলে ধরেন তিনি। সমসাময়িক ব্যস্ত জীবনের মাঝে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মান-অভিমানের গল্প নিয়ে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি দর্শকমনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুম্বাদার সান্নিধ্য এবং পরিচালকের বাধ্য ছাত্রী
এই ছবির মাধ্যমে টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথমবার স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ পেয়েছেন শুভশ্রী। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে নিজের অনুপ্রেরণা ও আদর্শ উল্লেখ করে তিনি জানান, সাড়ে চারশর বেশি সিনেমা করার পরও কাজের প্রতি তাঁর যে ডেডিকেশন ও খিদে, তা সত্যিই শেখার মতো। অন্যদিকে, পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর কাজের রসায়ন অত্যন্ত চমৎকার। পরিচালকের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক উল্লেখ করে শুভশ্রী নিজেকে একজন ‘ডাইরেক্টরস আর্টিস্ট’ বা বাধ্য ছাত্রী হিসেবে দাবি করেন, যার ফলে সেটে কাজের পরিবেশ সবসময় সহজ ও সুশৃঙ্খল থাকে।
বাস্তব জীবন ও সেলুলয়েডের ‘অভিমান’
সিনেমার মূল বিষয়বস্তু ‘অভিমান’ ও ‘বিরহ’ প্রসঙ্গে শুভশ্রী জানান, মানুষ স্বভাবতই ভালোবাসতে এবং প্রেমে পড়তে পছন্দ করে। আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে মানুষ এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে তারা প্রায়শই নিজেদের আবেগ ও অনুভূতিগুলোকে উপেক্ষা করে যায়। সিনেমা আড়াই ঘণ্টার জন্য সেই অবদমিত অনুভূতিগুলোকে আবার স্পর্শ করার সুযোগ করে দেয়। নিজের বাস্তব জীবন সম্পর্কে অভিনেত্রী জানান, তিনি অত্যন্ত সহজ মনের একজন মানুষ এবং কোনো অভিমান দীর্ঘস্থায়ী না করে সরাসরি কথা বলে তা মিটিয়ে নেওয়ায় বিশ্বাসী, কারণ মানুষের জীবনটা খুবই ছোট। বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই চলচ্চিত্রটি বর্তমান প্রজন্মের যোগাযোগহীনতার সমস্যা এবং সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্বকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলে দর্শকদের আবেগঘনভাবে প্রভাবিত করতে পারে।