খুন ও স্কুলে বোমাবাজির মামলায় অবশেষে পুলিশের জালে নন্দীগ্রামের দাপুটে তৃণমূল নেতা!

দীর্ঘদিন পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন নন্দীগ্রামের কালীচরণপুরের প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আব্দুল আলিম আলরাজি। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মী খুন এবং বিদ্যালয়ে বোমাবাজির মতো একাধিক গুরুতর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এই পলাতক নেতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। যদিও ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট মামলায় তাঁকে এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তা এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি।
অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা ও এনআইএ যোগসূত্র
ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সহিংসতার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মনসা বাজারে বিজেপি কর্মী রথিবালা আড়ি হত্যাকাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়িয়েছিল আব্দুল আলিমের। শুধু তাই নয়, ২০২২ সালে নন্দীগ্রামের কাঞ্চন নগর হাই স্কুলে ভয়াবহ বোমাবাজির ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) দায়ের করা মামলাতেও তাঁর নাম রয়েছে। এর পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মারধর, হুমকি ও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আব্দুল আলিম প্রতিটি নির্বাচনের আগে এলাকায় বোমা ও বন্দুকের রাজনীতি করে বুথ দখল করতেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি, তোলাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে পুলিশের যে কঠোর অবস্থান তৈরি হয়েছে, এই গ্রেপ্তার তারই ধারাবাহিকতা। এই ঘটনার ফলে নন্দীগ্রাম অঞ্চলে শাসকদলের স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে, কারণ আব্দুল আলিম সেখানে নির্বাচনী রণকৌশল ও মাঠপর্যায়ের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন। অন্যদিকে, এই গ্রেপ্তারের পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে বিজেপি, ওই এলাকায় রাজনৈতিকভাবে বাড়তি সুবিধা পাবে। দীর্ঘদিন পর এই প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ফিরবে, তেমনই আগামী নির্বাচনগুলোতে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্রতা অনেকটাই কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।