পরিবর্তনের এক মাসেই বড় চমক শুভেন্দুর, আমূল থেকে আদানিকে এনে বাংলায় বিপুল বিনিয়োগের পথে নতুন সরকার!

পরিবর্তনের এক মাসেই বড় চমক শুভেন্দুর, আমূল থেকে আদানিকে এনে বাংলায় বিপুল বিনিয়োগের পথে নতুন সরকার!

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক এক মাসের মাথায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবনে কোমর বেঁধে নামল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের বেহাল শিল্প পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের অভাবকে প্রধান নির্বাচনী হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই শিল্প ও বণিকমহলকে ‘বিনিয়োগ-বান্ধব’ পরিবেশের বার্তা দিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যপূরণে খোদ মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক প্রথম সারির দেশীয় শিল্পপতির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন, যার মূল উদ্দেশ্য রাজ্যে মেগা লগ্নি টানা এবং যুবসমাজের জন্য বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

শিল্পের পুনরুজ্জীবনে এলঅ্যান্ডটি ও আমূলের মেগা লগ্নি

রাজ্যের পরিকাঠামো খোলনলচে বদলে ফেলতে সম্প্রতি কলকাতা বিমানবন্দরে দেশের শীর্ষ সারির নির্মাণ সংস্থা লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এন সুব্রহ্মণ্যনের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বন্ধ থাকা বড় বড় শিল্প প্রকল্প পুনরায় চালু এবং শক্তিশালী স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। অন্যদিকে, দুগ্ধশিল্পের বিকাশে রাজ্যে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে স্বনামধন্য দুগ্ধ উৎপাদক সংস্থা ‘আমূল’। নবান্নে গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে মেগা প্রকল্প আনতে চলেছে আমূল, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় জোয়ার আনবে।

তাজপুরের বদলে দাদনপত্রবাড়ে আদানি গোষ্ঠী এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

বাংলায় নতুন অর্থনৈতিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে আদানি গোষ্ঠীও। সম্প্রতি আদানি গোষ্ঠীর করণ আদানি নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার একটি ম্যারাথন বৈঠক করেন। এই বৈঠকে বন্দর, ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ ও সড়ক পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জমি জটিলতার কারণে পূর্বতন সরকারের পরিকল্পিত তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প হওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে বিকল্প হিসেবে আদানি গোষ্ঠীকে দাদনপত্রবাড়ে নতুন বন্দর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত লজিস্টিক হাব গড়ে তুলে রাজ্যকে বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করা, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাবে রাজ্যের বেকারত্ব দূরীকরণ এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *