বিকৃত ভিডিওর জের, এবার প্রাণহানির আশঙ্কায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ বাম নেত্রী দীপ্সিতা!

সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর। তাঁর দাবি, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর রাজনৈতিক সভা ও বক্তৃতার একাধিক ভিডিও এডিট করে এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়াই নয়, এই ধরনের বিদ্বেষমূলক অপপ্রচারের জেরে তাঁর উপর যে কোনও সময় গণপিটুনি বা মারাত্মক শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলেও গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই বাম নেত্রী।
প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে অপপ্রচার ও নিরাপত্তার অভাব
দীপ্সিতার অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিডিও ও বক্তব্যের অংশবিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সব ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হওয়ার ফলে তাঁর সম্পর্কে জনমানসে তীব্র ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইনি সুরক্ষার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলা গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন দীপ্সিতার আইনজীবী অভিষেক হালদার। আদালতের কাছে বাম নেত্রীর আবেদন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক এবং এই ধরনের বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও সহিংসতার আশঙ্কা
দীপ্সিতা ধরের অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে এই বিকৃত প্রচারের বিষয়টি নিয়ে তিনি আগেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ কিছুদিন আগে তাঁর ছবি-সহ একটি পোস্টারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। দীপ্সিতার আশঙ্কা, সমাজমাধ্যমে বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে যে নেতিবাচক ও হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, তা বাস্তব জীবনে তাঁর উপর বড়সড় আক্রমণ বা হেনস্থার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দীপ্সিতা ধর। ওই কেন্দ্রে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর শেষ পর্যন্ত বিজেপি জয়ী হলেও, নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব ও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছে দীপ্সিতাকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উন্নত প্রযুক্তির যুগে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে দীপ্সিতা ধরের এই আইনি পদক্ষেপ সমাজমাধ্যমের দায়বদ্ধতা, ডিজিটাল তথ্যের সত্যতা এবং জননেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। এখন হাইকোর্ট এই মামলায় কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।