‘পাল্টিবাজ কাকে বলে জানেন?’ অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দেওয়া নিয়ে ট্রোলের কড়া জবাব দিলেন অপরাজিতা আঢ্য

অতীতের ছবি ঘিরে ট্রোলিংয়ের ঝড়, ‘কাজের লোভে মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ’ অপবাদের কড়া জবাব দিলেন অপরাজিতা আঢ্য
টলিপাড়ার প্রভাবশালী ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর অন্যতম স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারের পর থেকেই টলিউডে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তৈরি করা একাধিপত্যের বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও বিনোদন দুনিয়ায় শোরগোল শুরু হয়েছে। এই আবহে কয়েক বছর আগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসকে টলিউডের একঝাঁক অভিনেত্রীর ভাইফোঁটা দেওয়ার একটি পুরনো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যকে দেখা যাওয়ায় নেটনাগরিকদের একাংশের তীব্র কটাক্ষ ও কুরুচিকর মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ‘কাজের লোভে মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ’ হওয়া বা ‘পাল্টিবাজ’ তকমা পাওয়ার এই তীব্র সমালোচনার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মুখ খুললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য।
সৌজন্য ও রাজনৈতিক সমর্থনের ফারাক
সামাজিক মাধ্যমে ট্রোলিংয়ের জবাবে অপরাজিতা আঢ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষ ‘সৌজন্যবোধ’ এবং ‘রাজনৈতিক সমর্থন’-এর মধ্যে গুলিয়ে ফেলছেন। তাঁর মতে, কোনো পদাধিকারী বা ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শন করা কেবলই সামাজিক সৌজন্য, এর সাথে কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সম্পর্ক নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়া সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে সমাজের বহু প্রথিতযশা গুণী শিল্পীরা যান কেবলই সৌজন্য দেখাতে, ক্ষমতার লোভে নয়। তিনি নিজেকে ‘পাল্টিবাজ’ বলতে নারাজ, কারণ তিনি কখনই কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা নেননি বা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে অংশ নেননি।
কাজের অভাব ও ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ
মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ হলেই টলিউডে কাজ পাওয়া যায়—এই ধারণাকে খণ্ডন করতে অভিনেত্রী তৃণমূলের তারকা সাংসদ শতাব্দী রায় বা সায়নী ঘোষের উদাহরণ দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, ঘনিষ্ঠতা থাকলে তাঁরা কেন সব সিনেমায় কাজ পাচ্ছেন না? নিজের কর্মজীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে অপরাজিতা জানান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিক ‘দাদা’-তে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার আগে মুম্বইয়ের এই প্রজেক্টের জন্য তিনি টানা ছয় মাস কোনো কাজ ছাড়াই বসেছিলেন। মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেই তাঁর দাবি।
অন্যদিকে, টলিউড ফেডারেশনের একাধিপত্য নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা এতটাই জটিল ও সুদৃঢ় ছিল যে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বা দেবের মতো শীর্ষ তারকারাও এককভাবে তার সমাধান করতে পারেননি। কোনো শিল্পী প্রতিবাদ করলে পরের দিন থেকেই টেকনিশিয়ানদের সহযোগিতা না পেয়ে কাজ হারানোর যে প্রচ্ছন্ন ভয় রয়েছে, সেই বাস্তব পরিস্থিতিকেও তিনি বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।