ভাঙন ধরা তৃণমূলের ভোট টানতে ময়দানে বামেরা, বঙ্গে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি আলিমুদ্দিনের

লোকসভা নির্বাচনে শূন্যের গেরো কাটানোর পর এবার পশ্চিমবঙ্গে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে কোমর বেঁধে নামছে সিপিএম। শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক রাজনৈতিক শূন্যস্থান ও ক্ষয়িষ্ণু অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন ফেরাতে রাজ্যজুড়ে লাগাতার আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। আগামী ২৩ ও ২৪ জুন দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে নির্বাচনী পর্যালোচনার পাশাপাশি এই আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে চলেছে।
ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ ও বুথভিত্তিক পর্যালোচনা
ইতিমধ্যেই দলের জেলা সংগঠনগুলি বুথভিত্তিক পর্যালোচনা শুরু করেছে, যা থেকে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বিজেপির সমস্ত হিন্দু ভোট পাওয়ার দাবিকে নস্যাৎ করে দেখা গেছে, শহরাঞ্চল ও মফস্বলের বর্ধিষ্ণু হিন্দুদের একটি বড় অংশ বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, যার সিংহভাগ পেয়েছিল তৃণমূল। বর্তমানে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই হিন্দু ভোটের পাশাপাশি সংখ্যালঘু vote-bank বা ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে ফিরিয়ে আনাই এখন বাম নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।
সংগঠন পুনর্গঠন ও গণআন্দোলনের রূপরেখা
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ ১৫ বছর কেটে গেলেও বুথ স্তরে বামেদের संगठन বা সংগঠন এখনো আশানুরূপ শক্তিশালী করা যায়নি। এই খামতি দূর করতে শাখা স্তরে সংগঠন পুনর্গঠন করে কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বিবৃতির রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে হকারদের পাশে দাঁড়ানো, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার মতো বিষয়গুলির পাশাপাশি বেকারত্ব, কৃষকের ফসলের সঠিক দাম এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বুনিয়াদি ইস্যুতে লাগাতার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ছাত্র-যুব আন্দোলনের বিস্তার ঘটিয়ে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে।