বন্ধুত্বের নামে চরম বিশ্বাসঘাতকতা, দুর্গাপুরে বান্ধবীকে গণধর্ষণের ছক তরুণীর!

বন্ধুত্বের নামে চরম বিশ্বাসঘাতকতা, দুর্গাপুরে বান্ধবীকে গণধর্ষণের ছক তরুণীর!

দুর্গাপুরের গণধর্ষণ কাণ্ডে উঠে এল এক হাড়হিম করা তথ্য, যেখানে খোদ এক তরুণী বান্ধবীই বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে নাবালিকাকে গণধর্ষণের ফাঁদ পেতেছিল। পরিচিত যুবকদের লালসার শিকার বানাতে প্রথমে ওই নাবালিকার সঙ্গে সুকৌশলে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় অভিযুক্ত তরুণী। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল চক্রী তরুণীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে গিয়ে নির্যাতিতাকে যে চরম মাশুল গুনতে হলো, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

যেভাবে বোনা হয়েছিল ছক

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুদবুদের বাসিন্দা অভিযুক্ত তরুণীর সঙ্গে নির্যাতিতার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তবে সম্প্রতি হঠাৎ করেই ওই তরুণী নির্যাতিতার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এরপর সে আজহারউদ্দিন মল্লিক, সুবীর দাস এবং রাজ মল্লিক নামের তিন যুবকের সঙ্গে নাবালিকার পরিচয় করিয়ে দেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত শনিবার বেড়াতে যাওয়ার নাম করে নাবালিকাকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর একটি চারচাকা গাড়ির ভেতরেই তাকে জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়ে সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকার একটি বেসরকারি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিন যুবকের ঘরে নাবালিকাকে বন্দি করে ধর্ষণের ছক বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রশ্নের মুখে হোটেলের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই নক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় হোটেলের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে পরিবারের সদস্য ছাড়া হোটেলে রুম দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও, এই ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। পরিচয়পত্র সঠিকভাবে যাচাই না করে কিংবা মোটা টাকার বিনিময়ে রুম ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ তদন্তে খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর হোটেলের ম্যানেজার রাজকুমার দে-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একজন এখনও পলাতক। এই অপরাধমূলক প্রবণতা সমাজে পরিচিতদের ওপর বিশ্বাসের জায়গাটিকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। একইসঙ্গে হোটেল ব্যবসার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মকানুন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *