হাতে সংবিধান, মুখে স্লোগান! ধৃত বামনেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে তোলা হলো আলিপুর আদালতে

হাতে সংবিধান নিয়ে আলিপুরে সৃজন, জামিন অযোগ্য ধারায় বিদ্ধ যুবনেতা
যাদবপুর রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এলাকা। সেই ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে সিপিএমের যুবনেতা তথা এসএফআই (SFI)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে। সোমবার তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন উপস্থিত জনতা। পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেই হাতে ভারতের সংবিধানের একটি কপি নিয়ে আদালত চত্বরে প্রবেশ করেন এই বাম নেতা। সৃজনকে আদালতে আনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে ভিড় জমান প্রচুর বাম কর্মী-সমর্থক। তাঁর সমর্থনে এবং পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু স্লোগানে কেঁপে ওঠে আদালত চত্বর।
আইনি জটিলতায় বাম যুবনেতা
পুলিশ সূত্রের খবর, সৃজন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৭টি নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২টি ধারা অত্যন্ত গুরুতর এবং জামিন অযোগ্য। হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারি কর্মীদের কর্তব্যে বাধা দেওয়ার জেরেই এই কড়া ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।
উত্তেজনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত, যাদবপুর স্টেশন চত্বরে রেল ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত। বামেদের দাবি, বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের এভাবে উচ্ছেদ করা অমানবিক। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়েই গ্রেফতার হন সৃজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবনেতার হাতে সংবিধান তুলে ধরার এই কৌশলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; এর মাধ্যমে তিনি নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের বার্তা দিতে চেয়েছেন। তবে সৃজনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারা থাকায় তাঁর আইনি মুক্তি আইনি লড়াইয়ের সাপেক্ষ। অন্যদিকে, এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বামেদের আন্দোলন আরও ঝাঁঝালো রূপ নিতে পারে, যা আগামী দিনে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।