তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল, কাকলির নেতৃত্বে এনডিএ শিবিরে ২০ সাংসদ!

তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল, কাকলির নেতৃত্বে এনডিএ শিবিরে ২০ সাংসদ!

লোকসভায় অভাবনীয় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনডিএ জোটে যোগ দিতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাসভবনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে একটি গোপন বৈঠকের পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ঘাসফুল শিবিরের ওই সাংসদরা।

বিদ্রোহী তালিকায় হেভিওয়েট ও তারকারা

সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং অন্যান্য সূত্র মারফত জানা গেছে, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়াও রয়েছেন শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, জুন মালিয়া এবং ইউসুফ পাঠানের মতো তারকা সাংসদরা। তালিকায় আরও নাম রয়েছে পার্থ ভৌমিক, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের, অরূপ চক্রবর্তী, জগদীশ বসুনিয়া ও শর্মিলা সরকারের মতো নেতাদের। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় এবং সায়নী ঘোষের মতো প্রথম সারির নেতারা এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে নেই বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

দলত্যাগের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই নজিরবিহীন দলবদলের কারণ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার সদ্য সমাপ্ত বাংলার নির্বাচনের ফলাফলকে তুলে ধরেছেন। জনাদেশ মেনে নিয়ে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁরা এনডিএ-র সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এই বিদ্রোহের জেরে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে চরম সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল। লোকসভায় দলের শক্তি বিপুলভাবে হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি দলের মূল প্রতীক ‘জোড়াফুল’ হাতছাড়া হওয়ার প্রবল আইনি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই সাংসদ পদ ও দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দুশেখর রায়, যা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *