বিধানসভার পর দিল্লিতেও ভাঙছে তৃণমূল, শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে ১৪ বিদ্রোহী সাংসদ!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় বড়সড় ভাঙনের পর এবার জাতীয় রাজনীতিতেও চরম সংকটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন খোদ দিল্লিতে উপস্থিত, ঠিক সেই সময়েই খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার পথে তাঁর দল। সোমবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে দফায় দফায় বৈঠক করেন তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ। দুপুরে এই বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যা জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর কৌশল
লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৯ জন সাংসদের মধ্যে দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে অন্তত ২২ জনের সমর্থন প্রয়োজন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁদের হাতে ২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন ১৪ জন সাংসদ। প্রকাশ্যে আসা ছবি অনুযায়ী এই তালিকায় রয়েছেন শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন এবং অরূপ চক্রবর্তীর মতো নেতারা। এই ভাঙনের আঁচ এতটাই তীব্র যে, অমিত শাহের ডাকে সাড়া দিয়ে দিল্লিতে যাওয়ায় দলেরই সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন মহুয়া মৈত্র।
রাজ্যসভাতেও অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির
লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও দলের রাশ আলগা হচ্ছে তৃণমূলের। ইতিমধ্যেই বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায় রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি দলত্যাগ করেছেন। এর পাশাপাশি টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতায় বিধানসভায় গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, যা রাজ্য স্তরেও দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
রাজ্যে ক্ষমতার সাম্প্রতিক পালাবদল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই তৃণমূলের এই লাগাতার ভাঙনের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে। এই দলবদল প্রক্রিয়া আইনিভাবে সম্পূর্ণ হলে সংসদে তৃণমূলের অস্তিত্ব কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকবে, যার ফলে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শক্তি হিসেবে তারা যেমন প্রাসঙ্গিকতা হারাবে, তেমনই বড়সড় ধাক্কা খাবে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটও।