তৃণমূলের অন্দরে প্রবল অসন্তোষ, শতাব্দী রায়ের বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জল্পনা!

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। সোমবার রাতে দিল্লির বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে বিদ্রোহের সুর বেজেছিল, এবার শতাব্দী রায়ের এই পদক্ষেপ সেই জল্পনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। বৈঠকের পর সাংসদ নিজেই মুখ খুলে জানিয়েছেন, কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নয়, বরং নিজ উদ্যোগেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন।
দলে একনায়কতন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগ
গত ১৭ বছর ধরে তৃণমূলে থেকেও দলের অভ্যন্তরে বঞ্চনা ও উপেক্ষার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন শতাব্দী রায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণেই দলে বারবার সমস্যা তৈরি হয়েছে। বহুবার দলের অন্দরে দুর্নীতি ও হারের কারণ নিয়ে সরব হলেও শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো কর্ণপাত করেনি। শতাব্দীর সরাসরি অভিযোগ, দলের মধ্যকার দুর্নীতির বিষয়টি জেনেও শীর্ষ নেতৃত্ব কেন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মূলত এই লাগামহীন দুর্নীতি এবং সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করার খেসারত হিসেবেই এই ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
ভয়ের রাজনীতি নয়, মানুষের স্বার্থে কাজের আশ্বাস
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও পরবর্তীতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের নেপথ্যে কোনো ভয় বা চাপের রাজনীতি রয়েছে, তা পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন বীরভূমের এই সাংসদ। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কাটমানির অভিযোগ বা অনৈতিক কাজের রেকর্ড নেই, তাই চাপের কাছে নতিস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। বরং এই বৈঠকের মাধ্যমে নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের স্বার্থে কাজের জন্য রাজ্য সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে। পাশাপাশি, লোকসভায় তাঁদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ ভাঙনকে সামনে নিয়ে এল, যা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।