‘জয় শ্রীরাম’ শুনেই বিমানবন্দরে মেজাজ হারিয়ে তেড়ে গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তীব্র উত্তেজনা!

‘জয় শ্রীরাম’ শুনেই বিমানবন্দরে মেজাজ হারিয়ে তেড়ে গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তীব্র উত্তেজনা!

রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ফের একবার চরম উত্তেজনা ছড়াল কলকাতা বিমানবন্দর ও কালীঘাটের তৃণমূল কার্যালয় চত্বরে। দিল্লি থেকে কলকাতায় পা রাখতেই নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়লেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দরে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কালীঘাটে তৃণমূলের মূল কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বিমানবন্দরে স্লোগান এবং সাংসদের চরম ক্ষোভ

মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক তখনই সেখানে উপস্থিত একদল সাধারণ মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই ঘটনায় চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন সাংসদ। নিজের মেজাজ ধরে রাখতে না পেরে তিনি বিক্ষোভকারীদের দিকে রীতিমতো তেড়ে যান এবং তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক নানা অভিযোগ ও জনমানসে তৈরি হওয়া অসন্তোষই এই ধরনের আকস্মিক প্রতিবাদের মূল কারণ। এর ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রকাশ্য কর্মসূচিতে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

কালীঘাটে সিআইডি অভিযান ও চক্রান্তের অভিযোগ

তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল করার মামলার তদন্তে মঙ্গলবার আচমকাই দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন লাগোয়া মূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় সিআইডি আধিকারিকরা। বিমানবন্দর থেকে সোজা সেখানে পৌঁছান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারীদের উপস্থিতিতেই তিনি সংবাদমাধ্যম এবং সিআইডি আধিকারিকদের ওপর মারাত্মকভাবে মেজাজ হারান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম জড়িয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই তল্লাশি অভিযানে বিজেপির লোকদের নিয়ে আসা হয়েছে এবং এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি গভীর চক্রান্ত। বিজেপি নেতাদের চাপেই পুলিশ ও প্রশাসন কাজ করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। এর পাশাপাশি, দলের যে সমস্ত বিক্ষুব্ধ বা দলবদলু নেতা গোপনে বা প্রকাশ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দরবারে যাতায়াত করছেন, তাঁদের প্রতিও তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন এই সাংসদ।

এই সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ ও পটপরিবর্তনের সাথে সাথে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংঘাতের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতেও হুগলির চণ্ডীতলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই রকম জনরোষ, ইটবৃষ্টি ও স্লোগানের মুখে পড়তে হয়েছিল, যা থানা চত্বরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। মঙ্গলবারের এই জোড়া ঘটনা এবং সিআইডি অভিযানকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার অমীমাংসিত লড়াই আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ওপর আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *