রেস্তোরাঁর নাম ‘নবান্ন’ রাখা যাবে না! সরকারি নির্দেশে লক্ষাধিক টাকা লোকসান ব্যবসায়ীর

রেস্তোরাঁর নাম ‘নবান্ন’ রাখা যাবে না! সরকারি নির্দেশে লক্ষাধিক টাকা লোকসান ব্যবসায়ীর

একটি রেস্তোরাঁর নাম ‘নবান্ন’ হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিল প্রশাসনিক জটিলতা। দুর্গাপুরের ব্যবসায়ী সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়ের সাধের রেস্তোরাঁটি ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করলেও, পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশে নাম পরিবর্তন করে ‘পার্বণ’ রাখতে বাধ্য হন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ট্রেডমার্ক থাকা সত্ত্বেও কেন এমন নির্দেশ এসেছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চাপা ক্ষোভ থাকলেও এতদিন বিষয়টি সেভাবে সামনে আসেনি।

ট্রেডমার্ক থাকা সত্ত্বেও নাম বদলের খেসারত

২০০৯ সালেই সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায় ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘নবান্ন’ নামের ট্রেডমার্ক পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুরে এক প্রশাসনিক বৈঠকে এলে বিষয়টি নজরে পড়ে। সেই বৈঠকে ওই রেস্তোরাঁ থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল এবং সেখানে ‘নবান্ন’ লোগোযুক্ত বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসে। এর পরেই সরকারি দপ্তরের তরফ থেকে দুর্গাপুর পুরসভায় চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়, কোনো আবাসন বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ‘নবান্ন’ বা ‘উত্তরকন্যা’ নাম ব্যবহার করা যাবে না। এই নির্দেশের জেরে কার্যত বাধ্য হয়েই ২০১৭ সালে রেস্তোরাঁর নাম বদলে ‘পার্বণ’ করতে হয় মালিককে। নাম বদলানোর প্রক্রিয়ায় ক্রোকারিজ, স্টাফদের পোশাক এবং প্রচারের যাবতীয় উপকরণ পরিবর্তন করতে গিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন তিনি। নিয়মিত ক্রেতাদের কাছে নতুন নামের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতেও তাঁকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে।

বিতর্কিত সরকারি নির্দেশ ও প্রশাসনিক ভূমিকা

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে সচিবালয় সরিয়ে হাওড়ার শিবপুরের এই বহুতল ভবনে স্থানান্তরিত করেন এবং তার নামকরণ করেন ‘নবান্ন’। এরপর ২০১৫ সালে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অন্য কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এই নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কোনো আইনি লড়াইয়ে না গেলেও, বর্তমানে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্রীয় অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও এভাবে নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া ছিল অনৈতিক। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তিনি আর অতীতের বিতর্ক নিয়ে ভাবতে নারাজ। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ‘পার্বণ’ আজ নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছে, তাই আপাতত নাম ফেরানোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *