হলিউড মুভির চিত্রনাট্য হার মানাল! ১২ বছরের শিশু সেজে পরিবারকে ১৪ মাস বোকা বানালো ৩৭ বছরের ‘ঠগ’

হলিউড মুভির চিত্রনাট্য হার মানাল! ১২ বছরের শিশু সেজে পরিবারকে ১৪ মাস বোকা বানালো ৩৭ বছরের ‘ঠগ’

হলিউড হরর মুভি ‘অরফান’ (Orphan)-এর কথা মনে আছে? যেখানে এক পূর্ণবয়স্ক মহিলা ছোট বাচ্চার ছদ্মবেশে একটি পরিবারকে বিভ্রান্ত করেছিল? ঠিক সেই সিনেমার চিত্রনাট্যই যেন জীবন্ত হয়ে উঠল ব্রেজিলে! ১২ বছরের অটিস্টিক অনাথ শিশু সেজে একটি পরিবারকে ১৪ মাস ধরে বোকা বানানোর ঘটনায় তোলপাড় বিশ্বজুড়ে।

পুরো ঘটনাটি যেভাবে ঘটল:

৩৭ বছরের আমান্ডা মারিয়া সাউজা ডি অলিভেরা নামে এক মহিলা নিজেকে রূঢ় বাস্তব থেকে বাঁচতে মরিয়া এক ১২ বছরের অটিস্টিক অনাথ শিশু হিসেবে উপস্থাপন করে। একটি পরিবার তাকে দত্তক নেওয়ার জন্য সবরকম আইনি ও পারিবারিক প্রস্তুতি সেরে ফেলেছিল। কিন্তু সেই ১২তম জন্মদিনের ঠিক কয়েকদিন আগে ফাঁস হয়ে গেল এই ঘৃণ্য প্রতারণার জাল।

প্রতারণার মাস্টারপ্ল্যান:

  • টার্গেট: মহিলাটি মূলত চার্চ এবং বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাকে টার্গেট করত।
  • নিখুঁত অভিনয়: বাচ্চাদের মতো আচরণ, ছোটদের জিনিসপত্র ব্যবহার করে সে সবাইকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে সে সত্যিই একটি অবোধ শিশু।
  • বয়সের অজুহাত: তার চেহারার বয়স কেন বেশি—এই প্রশ্নের উত্তরে সে তৈরি রেখেছিল এক করুণ গল্প। সে বলত, “ছোটবেলার ভয়াবহ ট্রমা বা নির্যাতনের কারণে আমার শরীরে দ্রুত বার্ধক্য এসেছে।”
  • সহানুভূতি আদায়: মানুষের মন গলানোর জন্য সে নিজের শরীরে নিজেই আঘাত করত। ডাক্তারি পরীক্ষায় পরে প্রমাণ মেলে যে, তার শরীরে পাওয়া জখমগুলো বাইরে থেকে কেউ করেনি, বরং সহানুভূতি পেতে সে নিজেই সেগুলো সৃষ্টি করেছিল।

কীভাবে ফাঁস হলো?

দত্তক নিতে চাওয়া পরিবারের এক আত্মীয়ের মনে সন্দেহ জাগে। তিনি অনলাইনে অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারেন যে, এই ‘ছোট মেয়েটি’ আসলে ব্রেজিলের বিভিন্ন রাজ্যে মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী। তার নামে একাধিক প্রতারণার মামলা ঝুলছে।

বর্তমান পরিস্থিতি:

সান্তা ক্যাটারিনা পুলিশ শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করেছে। আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছে ওই মহিলা। বর্তমানে তার মানসিক ভারসাম্য ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে বিচারক পূর্ণাঙ্গ সাইকিয়াট্রিক ইভ্যালুয়েশন বা মানসিক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।

এক তুখড় প্রতারকের এই আজব কাণ্ড এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ব্রেজিলের এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে—চোখে যা দেখেন, তা সবসময় সত্য নাও হতে পারে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *