কামারহাটিতে বেআইনি বহুতলের রমরমা! ১৭৮টি আবাসনে নোটিশ, প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে এফআইআর
নিজস্ব প্রতিবেদন: কামারহাটি পুরসভা এলাকায় বেআইনি নির্মাণের রমরমা আটকাতে এবার নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। পুরসভার নিজস্ব সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—পুর এলাকায় প্রায় ১৭৮টি বেআইনি আবাসন গড়ে উঠেছে, যেগুলির কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান নেই। বেআইনি নির্মাণ রুখতে এবার প্রোমোটার ও জমি মালিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করল পুরসভা।
কী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুরসভা?
পুরসভা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ১৭৮টি বহুতলকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে মোট ৬ জন প্রোমোটার এবং জমির মালিকের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, আইন মেনেই এই জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
কেন এই কড়াকড়ি?
কামারহাটির অলিগলিতে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা এই বহুতলগুলি স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ:
- নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ: অধিকাংশ আবাসনের কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান নেই।
- পুকুর ভরাট: আড়িয়াদহের ত্রাস জয়ন্ত সিংয়ের বহুতলটি গড়ে উঠেছিল পুকুর ভরাট করে, যার কোনও বৈধ নথি নেই। আইনি জটিলতায় বর্তমানে সেটি ভাঙার কাজ থমকে রয়েছে।
- বিপজ্জনক পরিস্থিতি: ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বহুতল বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি নির্মাণের জেরে পাশের বাড়িতে ফাটল ধরার ঘটনাও ঘটেছে।
- বাহুবলীদের দাপট: স্থানীয়দের দাবি, পুরসভার আইনের চেয়েও এখানে প্রভাবশালীদের কথাই ছিল শেষ কথা। গঙ্গার ধারের চটকল এলাকাগুলোতে একসময় গুড্ডু আনসারির মতো বাহুবলীদের দাপট ছিল, যাদের মদতেই এই বেআইনি নির্মাণগুলি মাথা তুলেছে।
পুরসভার বক্তব্য:
পুর চেয়ারম্যান গোপাল সাহা জানিয়েছেন, “আমরা ১৭৮টি আবাসনে ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠিয়েছি। অনেক ক্ষেত্রেই প্রোমোটার ও জমির মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মামলা চলায় আমরা সরাসরি ভাঙতে পারছি না। সরকার যে নির্দেশ দেবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিজের দায় ঝেড়ে ফেলার কৌশল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে এত বড় সংখ্যক বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভার এই এফআইআর-এর পর, আদৌ এই বহুতলগুলি ভাঙা সম্ভব হয় কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।