অগ্নিগর্ভ বেলফাস্ট! ছুরি হামলার জেরে অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভে জ্বলছে শহর, আতঙ্কে ঘরছাড়া বহু পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্ট এখন কার্যত বারুদের স্তূপ। এক নৃশংস ছুরি হামলার ঘটনার পর অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভের জেরে শহরটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে একের পর এক বাড়ি ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে দিশেহারা বহু অভিবাসী পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে।
কেন এই অশান্তি?
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। উত্তর বেলফাস্টে এক ৪০ বছর বয়সি ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় সুদানের এক ৩০ বছর বয়সি বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলার ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিবাসন বিরোধী গোষ্ঠীগুলি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে।
বিক্ষোভের ভয়াবহতা:
- অগ্নিসংযোগ: মুখোশধারী দুষ্কৃতীরা পেট্রল বোমা ছুড়ে একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বাসে আগুন ধরানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে।
- পালিয়ে বাঁচা: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আতঙ্কে বহু অভিবাসী পরিবার রাতারাতি এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে গেছেন।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ইসলামিক সেন্টার নিরাপত্তার কারণে সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। শহরের বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। আকাশপথে হেলিকপ্টার দিয়ে নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।
কী বলছে প্রশাসন?
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘অত্যন্ত নৃশংস’ বলে তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের হিংসার কোনো স্থান সমাজে নেই। উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিয়েলও বর্ণবিদ্বেষমূলক এই হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ১০০ জনের একটি দল এই তাণ্ডব চালাচ্ছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। তবে, দুই পক্ষের সংঘাত ও উত্তেজনায় বেলফাস্টের পরিস্থিতি এখন থমথমে। সর্বত্রই আতঙ্ক।