খাবারে ভেজাল দিলেই সোজা জেল! দিঘায় পর্যটকদের স্বস্তি ফেরাতে কড়া হুঁশিয়ারি জেলাশাসকের

খাবারে ভেজাল দিলেই সোজা জেল! দিঘায় পর্যটকদের স্বস্তি ফেরাতে কড়া হুঁশিয়ারি জেলাশাসকের

পর্যটন কেন্দ্র দিঘা, মন্দারমণি বা তাজপুরে রাস্তার ধারের খাবার বা রেস্তোরাঁর খাবার খাওয়ার আগে এবার দুবার ভাববেন না! কারণ, খাবারের গুণমান নিয়ে কোনো রকম আপস নয়—এবার থেকে খাবারে ভেজাল মেশালে বা অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহার করলে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করবে প্রশাসন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে প্রয়োগ করা হবে ‘খুনের মামলা’র মতো কঠোর ধারা!

সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের এই কঠোর বার্তার পরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

  • স্বাস্থ্যের ঝুঁকি: দিঘা বা মন্দারমণির মতো পর্যটন এলাকায় একাধিক রেস্তোরাঁ ও রাস্তার ধারের দোকানে নিয়ম না মেনে খাবার তৈরির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। খাবারে অতিরিক্ত কৃত্রিম রং, কাপড়ের রং বা নিম্নমানের তেল ব্যবহারের ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
  • পর্যটকদের নিরাপত্তা: জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর দিঘায় পর্যটকের ঢল বাড়ছে। ভিনরাজ্যের পর্যটকদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
  • নকল ওষুধ রুখতে: শুধুমাত্র খাবার নয়, নকল ওষুধ বা নিম্নমানের ভোগ্যপণ্যের বিরুদ্ধেও একইরকম কড়া মনোভাব নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কী কী নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন?

১. বৈধ রেজিস্ট্রেশন: জেলার প্রতিটি খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁকে দ্রুত বৈধ রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসতে হবে। লাইসেন্সহীন দোকানগুলোতে পুলিশি অভিযান চালানো হবে।

২. প্রশিক্ষণ শিবির: ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার তৈরির জন্য দ্রুত প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করবে প্রশাসন।

৩. সারপ্রাইজ ভিজিট: ফুড সেফটি দপ্তর, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং পুলিশকে নিয়ে নিয়মিত অভিযানে নামছে প্রশাসন।

৪. কড়া বার্তা: জেলাশাসক সাফ জানিয়েছেন, “যাঁরা খাবারে ক্ষতিকারক রং বা উপাদান মেশাচ্ছেন, তাঁরা সাবধান হয়ে যান। ধরা পড়লে শুধু জরিমানা নয়, এফআইআর হবে। প্রয়োজনে খুনের মতো ধারা (Murder Charge) প্রয়োগ করে জেলে পাঠানো হবে।”

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। নন্দীগ্রাম বা হলদিয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। তবে, এই অভিযান কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং খাদ্য দপ্তরের পর্যাপ্ত কর্মী না থাকার সমস্যা প্রশাসন কীভাবে মেটায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *