মমতার পার্টি অফিসে সিআইডি হানা, ক্ষোভে ফুঁসছেন কল্যাণ!

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে সিআইডি অভিযানের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। খোদ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অতীতে কখনও এমনভাবে অপদস্থ করা হয়নি। এই ঘটনা বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
দলের অন্দরেই চক্রান্তের গন্ধ
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সাংসদ গোপনে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। দলের ভেতরের এই গোপন বোঝাপড়া এবং বিশ্বাসের অভাবের কারণেই আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি অফিসে সিআইডি হানার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। এই মন্তব্য শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে দূরত্বের জল্পনাকে আরও উসকে দিল।
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ
সিআইডি অভিযানের নেপথ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কল্যাণ। তিনি দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তাঁর অভিযোগ, ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর মদতে তৃণমূলের প্রায় ১২ হাজার কর্মী ও নেতাকে গ্রেফ্তার করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক চরম রূপ।
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাপ্রবাহ রাজ্যের শাসক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। এর ফলে একদিকে যেমন তৃণমূলের সাংগঠনিক ঐক্য প্রশ্নের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো একে হাতিয়ার করে আরও কোণঠাসা করার সুযোগ পাচ্ছে। আগামী দিনে এই বিবাদ রাজ্য রাজনীতিতে বড় কোনো মেরুকরণ ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।