নদিয়ায় হাড়হিম হত্যাকাণ্ড! হস্টেল বন্ধ করতে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে খুন করল দুই কিশোরী

নদিয়ায় হাড়হিম হত্যাকাণ্ড! হস্টেল বন্ধ করতে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে খুন করল দুই কিশোরী

নদিয়ার কৃষ্ণনগরে একটি স্কুলের আবাসিক হস্টেলে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। হস্টেলের কড়া নিয়মের হাত থেকে মুক্তি পেতে সাত বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে বালতির জলে ডুবিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে। গত শনিবার হস্টেলের বাথরুম থেকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সঞ্জনা মণ্ডলের দেহ উদ্ধার হয়। এই নৃশংস ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

খুনের কারণ ও নৃশংসতা

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠা তথ্য। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত দুই নবম শ্রেণির ছাত্রী দীর্ঘ দিন ধরেই হস্টেলের কড়া নিয়মে অতিষ্ঠ ছিল। তারা এমন একটি বড় ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিল, যাতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে হস্টেলটি বন্ধ করে দেয়। এই মর্মান্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও ছোট সঞ্জনাকে ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে বেছে নেয়। হস্টেল সূত্রে খবর, রাতে সঞ্জনার সঙ্গেই ঘুমাত অভিযুক্তরা। সুযোগ বুঝে তারা শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে বালতির জলে ডুবিয়ে দেয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে ব্লেড দিয়ে তার হাতের কব্জিও কেটে দেয়।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

সঞ্জনার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশের সন্দেহ দানা বাঁধে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ঘটনার সময় বাইরে থেকে কোনও ব্যক্তি হস্টেলে প্রবেশ করেনি। এরপর আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে ওই দুই কিশোরীর কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং জেরার মুখে তারা অপরাধ স্বীকার করে নেয়। অভিযুক্তদের বর্তমানে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহত ছাত্রীর পরিবার অভিযুক্তদের পাশাপাশি স্কুল ও হস্টেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও গাফিলতির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এই ঘটনার জেরে আবাসিক স্কুলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি এবং কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামীতে হস্টেল পরিচালনার নিয়মকানুনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। পুলিশ এখন ফরেন্সিক এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *