শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় দপ্তর বণ্টন চূড়ান্ত, কার হাতে কোন গুরুভার!
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/28/suvendu-adhikari-2026-05-28-14-44-13.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে দীর্ঘ বৈঠকের পর কোন মন্ত্রীকে কোন গুরুদায়িত্ব দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত করা হয়। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর গত ৯ মে এবং ১ জুন দুই দফায় শপথ নেন মন্ত্রীরা। অবশেষে দীর্ঘ এক সপ্তাহের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দপ্তর ভাগের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা তৈরি হলো, যার মাধ্যমে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাজ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।
মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ববণ্টন
সরকারিভাবে তালিকা প্রকাশিত না হলেও প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতে স্বরাষ্ট্র-সহ একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আইন, বিদ্যুৎ এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর। পরিবর্তনের সরকারের আর্থিক মেরুদণ্ড সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির অভিজ্ঞ মুখ স্বপন দাশগুপ্তকে, তিনি পাচ্ছেন অর্থ দপ্তর। পাশাপাশি, বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায় শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরের দায়িত্ব সামলাবেন ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও, পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের দায়িত্ব অর্জুন সিং, কৃষি দপ্তর দুধকুমার মণ্ডল, পর্যটন দপ্তর শঙ্কর ঘোষ এবং বন ও পরিবেশ দপ্তর মনোজ ওঁরাওয়ের হাতে ন্যস্ত করা হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবার উচ্চশিক্ষা ও স্কুল শিক্ষাকে আলাদা করে যথাক্রমে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও দীপক বর্মণকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই দপ্তর বণ্টনের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল। একদিকে যেমন স্বপন দাশগুপ্ত ও তাপস রায়ের মতো পোড় খাওয়া নেতাদের হাতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্র ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে অর্জুন সিং বা দুধকুমার মণ্ডলের মতো মাঠপর্যায়ের নেতাদের দেওয়া হয়েছে জনবহুল ও উৎপাদনমুখী দপ্তরের ভার। নতুন সরকারের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংস্কারকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দপ্তর বিভাজনের এই বিন্যাস প্রমাণ করে, প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন মুখের কার্যকারিতাকে প্রাধান্য দিয়েছে শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে মূল মন্ত্রকগুলো রাখায় প্রশাসনিক রাশ শক্ত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা নতুন সরকারের নীতি রূপায়ণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।