নবান্নে নীল-সাদার অবসান! পালাবদলের বাংলায় শুরু গেরুয়াকরণ

নবান্নে নীল-সাদার অবসান! পালাবদলের বাংলায় শুরু গেরুয়াকরণ

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে রঙের বদল। দীর্ঘদিনের পরিচিত নীল-সাদা রং মুছে রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্নে এবার লাগতে শুরু করেছে গেরুয়া প্রলেপ। ইতিমধ্যেই নবান্ন সভাগৃহে গেরুয়া ও সাদা রং করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। পুরো ভবনটিকে নতুন রঙে সাজিয়ে তোলার জন্য পূর্ত দপ্তরের আনুষ্ঠানিক দরপত্র ডাকা এখনও বাকি থাকলেও, এই পরিবর্তন প্রশাসনিক চেহারায় স্পষ্ট বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রশাসনিক ভবনে রঙের রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রশাসনিক ভবনের রং বদল নতুন ঘটনা নয়। একসময় ঐতিহ্যবাহী লাল রঙের রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে সরকার পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে স্থানান্তরিত হয় এবং রাজ্যের প্রায় সমস্ত সরকারি ভবন ও রাস্তার ডিভাইডার নীল-সাদা রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনই এই নতুন রং বদলের মূল কারণ। নতুন সরকার আগের রীতি মেনেই তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে মানানসই গেরুয়া রঙে প্রশাসনিক ভবনগুলোকে সাজাতে চাইছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

প্রাথমিকভাবে নবান্নের একাংশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নতুন রং করে দেখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হলে, রাজ্যের সামগ্রিক দৃশ্যপটে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। সেক্ষেত্রে নিউ সেক্রেটারিয়েট, খাদ্যভবন, পঞ্চায়েত ও বিকাশ ভবন-সহ রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর এবং রাস্তার ডিভাইডারের রংও পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে রাজ্যজুড়ে সরকারি পরিকাঠামোগুলিতে পুরোনো সরকারের চিহ্ন মুছে নতুন শাসকদলের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *