পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ সরকার, ১২ জুন থেকে ত্রিপুরায় ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট ও অবরোধের ডাক

পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ সরকার, ১২ জুন থেকে ত্রিপুরায় ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট ও অবরোধের ডাক

২০২৪ সালের শান্তিচুক্তির শর্ত অনুযায়ী পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ত্রিপুরায় আত্মসমর্পণকারী এনএলএফটি (NLFT) ও এটিটিএফ (ATTF)-এর সদস্যরা। এই অভিযোগ তুলে আগামী ১২ জুন থেকে ৭২ ঘণ্টার লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগঠন দুটি। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে রাজ্যে সড়ক ও রেল অবরোধের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ক্ষোভের কারণ

সংগঠনটির নেতাদের দাবি, ২০২৪ সালের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় দুই বছর পার হয়ে গেলেও পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলি কার্যকর করা হয়নি। চুক্তির সময় পুনর্বাসনের জন্য ২৫০ কোটি টাকার যে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণার কথা ছিল, তার বাস্তব কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বারবার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনের পরিকল্পনা ও ব্যর্থ প্রচেষ্টা

আন্দোলনকারীদের ঘোষণা অনুযায়ী, কর্মসূচির অংশ হিসেবে খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া ও খোয়াই এলাকায় সড়ক ও রেল অবরোধ করা হবে। গত ১ জুন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং জনজাতি কল্যাণ দফতরের কর্তাদের কাছে একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আর্জি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন নেতারা।

প্রেক্ষাপট

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ত্রিপুরা সরকার, এনএলএফটি এবং এটিটিএফ-এর মধ্যে এক চতুর্পাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আওতায় মোট ৫৮৪ জন জঙ্গি আধুনিক মারণাস্ত্র (যেমন একে-৪৭, একে-৫৬, এম-১৬ রাইফেল, গ্র্যান্ডেড, ল্যান্ডমাইন) জমা দিয়ে মূলস্রোতে ফিরে আসেন। ত্রিপুরায় দীর্ঘদিনের জঙ্গি উপদ্রব কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এই চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তবে পুনর্বাসনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নতুন করে এই অসন্তোষ ও আন্দোলনের ডাক প্রশাসনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *