টিসিএস-এ মানুষের সমান AI এজেন্ট! গণনিয়োগের দিন কি শেষ? বড় ইঙ্গিত এন চন্দ্রশেখরণের

টিসিএস-এ মানুষের সমান AI এজেন্ট! গণনিয়োগের দিন কি শেষ? বড় ইঙ্গিত এন চন্দ্রশেখরণের

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) কি তবে মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে? বিশ্বজুড়ে এই উদ্বেগ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আইটি সেক্টরের অন্যতম বড় কো ম্পা নি টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণের মন্তব্য নতুন করে জল্পনা উসকে দিল। সংস্থার ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী দিনে টিসিএস-এ কর্মী নিয়োগের ধরনে বড় বদল আসতে চলেছে।

মূল যে বিষয়গুলো ভাবাচ্ছে:

  • মানুষ বনাম এআই এজেন্ট: চন্দ্রশেখরণ জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে টিসিএস-এর কর্মীবাহিনীর সমান সংখ্যক এআই এজেন্ট থাকবে। অর্থাৎ, প্রায় ৬ লক্ষ মানবকর্মীর বিপরীতে সমানুপাতিক হারে কাজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এজেন্ট।
  • নিয়োগে রাশ: সংস্থা বর্তমানে বিশাল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের যে ধারায় অভ্যস্ত ছিল, তা সম্ভবত কমতে চলেছে। অর্থাৎ, অতীতে যেভাবে গণনিয়োগ (Mass Hiring) দেখা যেত, সেই যুগ শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
  • ছাঁটাই নাকি দক্ষতা: চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেছেন, এই পরিবর্তনের মানেই যে কর্মী ছাঁটাই হবে, তা নয়। বরং সংস্থা দক্ষ কর্মী নিয়োগ চালিয়ে যাবে, তবে এআই-এর হাত ধরে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর দিকেই এখন মূল মনোযোগ।

অতীতের মতো নিয়োগ কি আর হবে?

টিসিএস-এ বর্তমানে প্রায় ৫.৮৪ লক্ষ কর্মী কাজ করেন। চন্দ্রশেখরণের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কো ম্পা নি তার অভ্যন্তরীণ কাজ এবং ক্লায়েন্ট প্রজেক্টের ক্ষেত্রে এআই এজেন্টদের ওপর বেশি নির্ভর করবে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইটি শিল্পের জন্য এক বিশাল সুযোগ। এআই কর্মী এবং মানবকর্মী হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করলে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

তবে এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রযুক্তি মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এআই যদি একই হারে কাজ করতে পারে, তবে কো ম্পা নির পক্ষে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে যাবে। টিসিএস চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিল—ভবিষ্যতে কি আইটি সেক্টরে মানুষের চাহিদা কি তবে কমে আসবে? উত্তর দেবে সময়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *