ইলন মাস্কের স্টারলিংককে ‘না’ ভারতের! জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ৩ কঠিন শর্ত, চিন্তায় বিশ্বসেরা ধনকুবের

ভারতে হাই-স্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু করার স্বপ্নে বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক। তার সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX)-এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট শাখা ‘স্টারলিংক’ (Starlink) ভারতে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে কেন্দ্র করে ভারত সরকার যে অবস্থান নিয়েছে, তাতে আপাতত থমকে গেছে এই প্রক্রিয়া।
কেন এই সতর্কতা? ‘ইরান’ সংযোগ কী?
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্টারলিংককে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। এর পেছনে রয়েছে ‘ইরান ফ্যাক্টর’। অতীতে দেখা গেছে, ইরানে কোনো সরকারি অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই স্টারলিংক পরিষেবা সচল হয়েছিল। দেশটির অভ্যন্তরীণ অশান্তি বা প্রতিবাদের সময় স্টারলিংকের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সরকারি নজরদারি এড়িয়ে যোগাযোগ চালানো হয়েছিল। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংক যদি একইভাবে ভারতে কাজ করে, তবে তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সরকারের সেই ৩ কঠিন প্রশ্ন:
স্টারলিংককে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ভারত সরকার তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রেখেছে:
১. সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ: সীমান্তে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক উত্তেজনার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে, আমেরিকা থেকে নিয়ন্ত্রিত স্টারলিংককে কি ভারত পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে?
২. বিদেশি চাপের প্রভাব: কোনো বিদেশি সরকারের চাপে পড়ে স্টারলিংক যদি ভারতের বিপক্ষে কোনো কাজ করে, তবে দেশের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?
৩. ডেটা সুরক্ষা: ভারতের কোটি কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য এবং দেশের স্পর্শকাতর গোপন তথ্য ফাঁস না হওয়ার কোনো গ্যারান্টি আছে কি?
এই নিরাপত্তা প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর পেলেই একমাত্র স্টারলিংককে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারত।
ইলন মাস্কের সামনে নতুন সংকট:
এই বিলম্ব ইলন মাস্কের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্পেসএক্স খুব শীঘ্রই স্টক মার্কেটে আইপিও (IPO) আনার পরিকল্পনা করছে। এমন সময়ে ভারতের মতো বিশাল বাজারে প্রবেশ করতে না পারা তাদের রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভারতের স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম নির্ধারণের প্রক্রিয়াও এই ঝামেলার কারণে আপাতত স্থগিত হয়ে আছে।
শেষ কথা:
বাণিজ্যিক লাভের চেয়ে দেশের নিরাপত্তা যে ভারতের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল। স্টারলিংক যতক্ষণ না পর্যন্ত ভারতের কঠোর নিরাপত্তা শর্তাবলী মেনে নিতে সম্মত হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর বিষয়টি অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।