পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরে দায়িত্ব নিয়েই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ অর্জুন সিংয়ের, কী কী বদল আসবে?
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2023/12/Arjun-Singh.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন ব্যারাকপুরের দাপুটে নেতা অর্জুন সিং। এবার তাঁর কাঁধে রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঠিক আগেই, রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রম ব্যবস্থার ‘খোলনলচে বদলে ফেলা’-র অঙ্গীকার করলেন তিনি।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ অর্জুন সিং, এবার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন নতুন মেজাজে। এই সময় অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের জন্য নিজের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন নতুন মন্ত্রী।
পরিবহণ দপ্তরে কী কী বদল আনবেন অর্জুন?
পরিবহণ ব্যবস্থার হাল ফেরাতে অর্জুন সিং মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন:
- বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি: মন্ত্রীর প্রথম অগ্রাধিকার হলো রাস্তায় সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানো। বিশেষ করে যাত্রী সুবিধার্থে ইলেকট্রিক বাসের পরিষেবার প্রসারে তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
- অব্যবস্থাপনার তদন্ত: গত সরকারের আমলে বাস ডিপোর জমি বিক্রি, সরকারি বাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও তেল চুরির মতো যে অভিযোগগুলি উঠেছে, সেগুলির গভীরে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, ফাইল খুঁটিয়ে দেখে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- পরিষেবার নিশ্চয়তা: সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় অভিযোগ— রাস্তায় সরকারি বাসের দেখা পাওয়া যায় না। নির্বাচনী প্রচারের সময়ও এই সমস্যাটি তাঁর কানে এসেছে। যে সব রুটে পরিষেবা ধুঁকছে বা বন্ধ রয়েছে, সেগুলিকে দ্রুত সচল করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
- মহিলাদের সুরক্ষা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভিশন অনুযায়ী, মহিলারা যাতে সরকারি বাসে বিনামূল্যে এবং নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
- পূর্বতন ত্রুটি সংশোধন: প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর আমলে পরিবহণ দপ্তরে থাকা আসাম্পূর্ণ বিষয়গুলি নিয়েও তিনি খোঁজখবর নেবেন বলে জানিয়েছেন।
শ্রমিকদের জন্য নতুন ভাবনা
পরিবহণের পাশাপাশি শ্রম দপ্তরের দায়িত্ব সামলানোটাও অর্জুন সিংয়ের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শ্রমিক আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা এই নেতার কাছে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা বরাবরই অগ্রাধিকার পেয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের জুট মিলগুলির শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। কারখানার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রশাসনিক কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে, পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরে তিনি কতটা আমূল পরিবর্তন আনতে পারেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ।