ইরান অনেক সময় নষ্ট করেছে এবং এবার চরম মূল্য চোকাতে হবে, হুঙ্কার ট্রাম্পের

হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এবং তার জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের পাল্টা হামলাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংঘাতের আবহে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার জন্য তেহরান অনেক বেশি সময় নষ্ট করে ফেলেছে এবং এর জন্য তাদের বড় মূল্য চোকাতে হবে। ট্রাম্পের এই কঠোর বার্তার পরপরই তেহরানের পক্ষ থেকে সুর নরম করে কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংঘাতের সূত্রপাত ও ট্রাম্পের কড়া বার্তা
সম্প্রতি হরমুজ় প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে সেখানে ইরানি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন সেনা। এর জবাবে বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে পাল্টা আঘাত হানে ইরান। এই হামলা-পাল্টা হামলার পরই সামাজিক মাধ্যমে সরব হন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে তাদের বায়ুসেনা ও নৌসেনা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত। তেহরান কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সঠিক সময়ে চুক্তি না করার মাশুল এবার ইরানকে দিতে হবে।
তেহরানের সুর নরম ও আঞ্চলিক প্রভাব
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন হুঁশিয়ারির পর ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই কিছুটা নরম সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন হলেও যেকোনো আলোচনার জন্য একটি ন্যূনতম স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। সংঘর্ষবিরতি বারবার লঙ্ঘিত হলে কোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি ওয়াশিংটনের নীতিকে পরস্পরবিরোধী বলে সমালোচনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই চাপ সৃষ্টির নীতি এবং ইজ়রায়েলের সাথে ইরানের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। লেবানন ইস্যুতে ইজ়রায়েলের আগ্রাসন এবং অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পুনরায় নির্বাচনে লড়ার ঘোষণার মধ্যে আমেরিকার এই কঠোর অবস্থান ইরানকে কূটনৈতিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে পারে। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি শেষ পর্যন্ত তেহরানকে নতুন কোনো চুক্তিতে বাধ্য করে নাকি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।