চূড়ান্ত দফতর বণ্টন নবান্নে, শুভেন্দুর ৪১ জনের মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দায়িত্ব!

চূড়ান্ত দফতর বণ্টন নবান্নে, শুভেন্দুর ৪১ জনের মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দায়িত্ব!

পশ্চিমবঙ্গে গঠিত নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ মোট ৪১ জন মন্ত্রীর মধ্যে কার হাতে কোন দফতর থাকছে, তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছে নবান্ন। নতুন এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ এবং হেভিওয়েট নেতাদের পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন মুখ ও তরুণ নেতৃত্বকে।

মুখ্যমন্ত্রীর হাতে গুরুত্বপূর্ণ দফতর এবং হেভিওয়েটদের দায়িত্ব

প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মজবুত রাখতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতর রেখে দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতর। এছাড়াও ভূমি ও ভূমি সংস্কার, ত্রাণ এবং উদ্বাস্তু পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর থাকছে তাঁর অধীনে। যে সমস্ত দফতর অন্য কোনো মন্ত্রীর মধ্যে বণ্টিত হয়নি, সেগুলিও সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।

মন্ত্রিসভার অন্য হেভিওয়েট মন্ত্রীদের মধ্যে দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্ব। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ উন্নয়ন দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের পূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। শিল্প ও বাণিজ্য এবং সরকারি উদ্যোগের মতো বড় দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ নেতা তাপস রায়কে। এছাড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। শিক্ষা ক্ষেত্রকে দুটি ভাগে ভাগ করে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে এবং স্কুলশিক্ষা দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন দীপক বর্মণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আগেই শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নাম আলোচিত হয়েছিল, যা এখন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ও প্রতিমন্ত্রীরা

নতুন এই মন্ত্রিসভায় কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বীরভূমের দুধকুমার মণ্ডল। শ্রম ও পরিবহণ দফতরের মতো দুটি বড় ক্ষেত্র যাচ্ছে অর্জুন সিংহের হাতে। খাদ্য ও সরবরাহ এবং সমবায় দফতর সামলাবেন অশোক কীর্তনিয়া। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে দেওয়া হয়েছে পর্যটন এবং পরিষদীয় বিষয়ক দফতর। এছাড়াও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তি দফতর পেয়েছেন কল্যাণ চক্রবর্তী এবং সেচ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অরূপকুমার দাসকে।

প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মালতি রাভা রায়কে নারী ও শিশুকল্যাণ এবং সমাজকল্যাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ এবং প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য দফতরের দায়িত্বে থাকছেন রাজেশ মাহাতো। বাকি ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকা স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে বিশাল লামাকে। হরেকৃষ্ণ বেরা পেয়েছেন উচ্চশিক্ষা এবং অশোক দিন্ডাকে কৃষিবিপণন ও ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্প দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। দফতর বণ্টনের এই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *