বাংলায় ফিরছে টাটা? দায়িত্ব নিয়েই রতন টাটার নাম স্মরণ করে মেগা ঘোষণা নতুন শিল্পমন্ত্রীর!

বাংলায় ফিরছে টাটা? দায়িত্ব নিয়েই রতন টাটার নাম স্মরণ করে মেগা ঘোষণা নতুন শিল্পমন্ত্রীর!

কলকাতা: রাজ্যের শিল্পায়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চান নবনিযুক্ত শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া শিল্পোদ্যোগীদের পুনরায় বাংলায় ফিরিয়ে আনা। আর সেই তালিকায় তাঁর অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার যে টাটা গোষ্ঠী, তা-ও অত্যন্ত স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্যের পর দীর্ঘ বছর পর নতুন করে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে সিঙ্গুরবাসী।

শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাপস রায় জানান, বাংলায় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রসঙ্গে আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, “টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে আনতেই হবে। আজ রতন টাটা বেঁচে থাকলে আমি নিজে তাঁর কাছে গিয়ে সবিনয় অনুরোধ করতাম, যাতে তিনি বাংলায় বিনিয়োগ করেন। টাটাকে ফেরানোর লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে আমি সরাসরি তাঁদের সদর দফতরে গিয়ে আলোচনা করব।” শুধু টাটা নয়, অতীতে যারা রাজ্য ছেড়েছেন, তাঁদের সবার দুয়ারে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কড়া নাড়বেন বলে জানান।

প্রাক্তন তৃণমূল জমানাকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শিল্পমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “পূর্বতন সরকার কেবল নিজেদের স্বার্থ ও একটি নির্দিষ্ট পরিবারের বৈভব বৃদ্ধির দিকে মনোযোগী ছিল, রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের দিকে তাদের নজর ছিল না।” প্রসঙ্গত, বাম আমলে সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছিল টাটা গোষ্ঠী। কিন্তু জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে শেষপর্যন্ত রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয় তারা। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিঙ্গুরের জমি চাষিদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল।

সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও টাটা গোষ্ঠীকে বাংলায় ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। এবার নতুন শিল্পমন্ত্রীও সেই একই সুরে সুর মেলালেন। তবে টাটারা পুনরায় সিঙ্গুরেই ফিরবে, নাকি রাজ্যের অন্য কোথাও বিনিয়োগ করবে— সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনই খোলসা করেননি মন্ত্রী। এখন দেখার, নতুন সরকারের এই আন্তরিক প্রচেষ্টা বাংলার বুকে টাটাকে সত্যিই ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *