মর্মান্তিক! এক মাস আগেই হয়েছিল ছেলের বিয়ে, চিরকূটে আসল রহস্য ফাঁস হতেই শিউরে উঠল বউ

মর্মান্তিক! এক মাস আগেই হয়েছিল ছেলের বিয়ে, চিরকূটে আসল রহস্য ফাঁস হতেই শিউরে উঠল বউ

মাণ্ড্য: কর্নাটকের মাণ্ড্য জেলার নেহরু নগর থেকে এক শিউরে ওঠার মতো রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। একই পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদের নাম প্রভাকর (কাপড় ব্যবসায়ী), তাঁর স্ত্রী জ্যোতি এবং তাঁদের সদ্য বিবাহিত ছেলে সন্তোষ।

মা ও ছেলের মৃতদেহ বাড়ির একটি ঘর থেকে উদ্ধার হলেও, পরিবারের প্রধান প্রভাকরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় তাঁর কাপড়ের দোকান থেকে। প্রথম দিকে ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে হলেও, পুলিশের হাতে আসা একটি সুইসাইড নোট গোটা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

গণ-আত্মহত্যা নয়, ঠান্ডা মাথার খুন!

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এটি কোনো যৌথ আত্মহত্যা ছিল না। বরং এক নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সুইসাইড নোট অনুযায়ী, ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে পরিবারের কর্তা প্রভাকর প্রথমে শ্বাসরোধ করে স্ত্রী জ্যোতি ও একমাত্র ছেলে সন্তোষকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করেন। এরপর নিঝুম রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের কাপড়ের দোকানে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

চিরকূটে লুকিয়ে ছিল ঋণের চরম যন্ত্রণা:

উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে প্রভাকর তাঁর এই চরম পদক্ষেপের পেছনে থাকা আর্থিক অনটনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কাপড়ের ব্যবসায় ব্যাপক লোকসান হওয়ায় তাঁর ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা চেপেছিল। বাধ্য হয়ে কিছু বেসরকারি ফাইন্যান্স কো ম্পা নির কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঠিকমতো ইএমআই (EMI) মেটাতে না পারায় ওই সমস্ত কো ম্পা নির এজেন্টরা তাঁকে লাগাতার মানসিক হেনস্থা ও হুমকি দিচ্ছিল। এই অপমান ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি সপরিবারে জীবন শেষ করার এই ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেন।

সকালে উঠে শাশুড়ির ঘরে যেতেই জ্ঞান হারানোর জোগাড় নতুন বউয়ের:

এই ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো, মাত্র দেড় মাস আগেই ছেলে সন্তোষের বিয়ে হয়েছিল। বাড়িতে বিয়ের আনন্দ কাটার আগেই নেমে এল এই অন্ধকার। ঘটনার রাতে সন্তোষের স্ত্রী (নতুন বউ) বাড়ির অন্য একটি ঘরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। রাতে কী ঘটে গেছে, তা তিনি টেরই পাননি।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি রোজকার মতোই পরিবারের সবার জন্য প্রাতঃরাশ তৈরি করেন। এরপর শাশুড়ি জ্যোতিকে ডাকতে গিয়ে ঘরে ঢুকতেই তাঁর চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। শাশুড়ি ও স্বামীর নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

তদন্তে নেমেছে পুলিশ:

মৃত প্রভাকরের ভাই ভেঙ্কটরাম জানিয়েছেন, প্রভাকর তাঁর এই আর্থিক সংকটের কথা পরিবারের কাউকে জানতে দেননি। বিয়ের সময়েও সাহায্যের কথা বলা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

মাণ্ড্য জেলার পুলিশ সুপার (SP) শোভারাণী জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে আর্থিক অনটন ও মানসিক হেনস্থার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করেছে এবং যে সমস্ত বেসরকারি ফাইন্যান্স কো ম্পা নি ওই পরিবারটিকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *