বিজেপি বা এনডিএ জোটে যাচ্ছেন না তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা, দিল্লিতে তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ!

তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বা এনডিএ জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটেছে। রাজনৈতিক মহলের সুত্রের খবর, এই বিদ্রোহী সাংসদরা প্রত্যক্ষভাবে গেরুয়া শিবির বা শাসক জোটে শামিল হচ্ছেন না। বরং তাঁরা লোকসভায় নিজেদের তৃণমূল সাংসদ পরিচয় বজায় রেখেই কাজ করবেন এবং সংসদে একটি পৃথক ব্লক বা গোষ্ঠী গঠন করে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম মেনে এই কৌশলগত অবস্থান নেওয়া সম্পূর্ণ সম্ভব বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার, যখন দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেদিন সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পরবর্তীতে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে এক ঝাঁক তৃণমূল সাংসদ দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকগুলিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। এর পরেই বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায় জানান যে, দলে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারায় তাঁরা ২০ জন সাংসদ নিয়ে সংসদে পৃথক ব্লক হিসেবে কাজ করবেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজেকে মুখ্য সচেতক এবং শতাব্দী রায় উপ-মুখ্য সচেতক হিসেবে কাজ চালানোর কথা বলায় দলবদলের জল্পনা তীব্র হয়। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁরা কোনো জোটে নিজেদের মিশিয়ে না দিয়ে স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখছেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশে এনডিএ-কে সমর্থনের সম্ভাবনা
সরাসরি শাসক জোটে যোগ না দিলেও এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পদক্ষেপ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্রের দাবি, তৃণমূলের এই ২০ জন লোকসভা সাংসদ এবং একাধিক রাজ্যসভা সাংসদ সংসদের নীতি নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের ক্ষেত্রে এনডিএ সরকারকে সমর্থন জোগাতে পারেন। এর ফলে লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে এর আগে আটকে যাওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং ডিলিমিটেশন বিলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল আইনগুলো পুনরায় সংসদে উত্থাপন এবং পাস করানো কেন্দ্রের শাসক দলের জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।
সংসদীয় রাজনীতিতে দূরগামী প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি দলবদল না করে পৃথক ব্লক গঠন করার এই সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে। এর মাধ্যমে সাংসদরা একদিকে যেমন দলত্যাগ বিরোধী আইনের আইনি জটিলতা এড়াতে সক্ষম হবেন, তেমনই সংসদে নিজেদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও দরকষাকষির ক্ষমতাও ধরে রাখতে পারবেন। এই নতুন মেরুকরণ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি ও দিল্লির কেন্দ্রীয় রাজনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই এক বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করতে চলেছে, যা আগামী দিনে জাতীয় স্তরের আইন প্রণয়নে গভীর প্রভাব ফেলবে।