যোগ নয় বরং সর্বস্তরে মহাজোট! কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে তৃণমূল

নয়াদিল্লিতে পরপর দু’দিনের হাইভোল্টেজ বৈঠক ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। ১০ জনপথে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক এবং পরবর্তীতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ আলোচনার পর রটে যায় যে, সর্বভারতীয় কংগ্রেসে মিশে যেতে পারে তৃণমূল। তবে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বই সংযুক্তির এই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। সরাসরি দলভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি না হলেও, আগামী দিনে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে দুই দল একে অপরের হাত ধরে চলারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।
লক্ষ্য বিরোধী ভোট একত্রিত করা
বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের ভোটকে ঐক্যবদ্ধ করাই বর্তমানে তৃণমূল ও কংগ্রেসের প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্বের কারণেই তৃণমূলের সঙ্গে জোটের পথের পুরনো কাঁটাগুলো অনেকটাই সরে গিয়েছে। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের পুরসভা বা পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরের বৃহত্তর লড়াইয়েও তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই জোট বাস্তবায়িত হলে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী সমীকরণ এক শক্তিশালী রূপ পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দিল্লিতে কংগ্রেসের জরুরি বৈঠক
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই ধারাবাহিক আলোচনার মাঝেই বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে জরুরি বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ডাকে মাত্র একদিনের নোটিসে সমস্ত রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের এই তলব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ও বিরল ঘটনা। মনে করা হচ্ছে, কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে তৈরি হওয়া এই নতুন সমীকরণ এবং সম্ভাব্য জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েই দলীয় নেতাদের বড় কোনও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করতে চাইছে হাইকমান্ড।