ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, পাল্টা হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করল তেহরান!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরেই ইরানে সামরিক আক্রমণের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি করল আমেরিকা। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সিরিক, মিনাব, বন্দর আব্বাস ও কাশেম দ্বীপের মতো একাধিক শহরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে মার্কিন সেনা। এই আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে দিয়েছে তেহরান।
চুক্তিতে বিলম্বের মাসুল ও মার্কিন কৌশল
এই সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সমঝোতা চুক্তির জন্য ইরান মাত্রাতিরিক্ত সময় নেওয়ায় তাদের এখন চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড এটিকে ইরানের ‘ধারাবাহিক আগ্রাসন’-এর জবাব হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার লক্ষ্য একটি বৃহত্তর সামরিক অভিযান। এই হামলা রুখতে ইরান ইতিমধ্যেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি সক্রিয় করেছে।
হরমুজ অবরোধ এবং যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব
আমেরিকার হামলার পাল্টা কৌশল হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। যদিও আমেরিকা দাবি করেছে যে সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় সুরক্ষা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধ কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে যেমন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনই হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় সংকট নেমে আসতে পারে।