বিপুল সম্পদের মালকিন সায়নী ঘোষ! রাজনীতিতে তোলপাড়ের মাঝেই সামনে এল মোট সম্পত্তির খতিয়ান

তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন ভাঙনের আবহে এবার খবরের শিরোনামে যাদবপুরের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ সায়নী ঘোষ। লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দেওয়া ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদের তালিকায় সায়নীর নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই বিনোদন দুনিয়া থেকে রাজনীতিতে লড়াকু জমি তৈরি করা সায়নীর মোট সম্পদের পরিমাণ কত, তা নিয়ে আমজনতার কৌতূহল এখন তুঙ্গে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সায়নী ঘোষের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯০ লক্ষ টাকারও বেশি।
ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স এবং নগদ টাকা
নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে, নির্বাচনের সময় সায়নী ঘোষের কাছে নগদ ছিল মাত্র ৩৫,০০০ টাকা। এ ছাড়া এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, ইউকো ব্যাঙ্ক এবং রেকারিং ডিপোজিট মিলিয়ে তাঁর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ১০.২৫ লক্ষ টাকা জমা ছিল। তবে একটি বিষয় বেশ উল্লেখযোগ্য, শেয়ার বাজারের ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখেছেন এই তারকা সাংসদ। স্টক, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চারে তাঁর কোনও বিনিয়োগ নেই, এমনকি কোনও পোস্টাল সেভিংসও করেননি তিনি।
গাড়ি, সোনা এবং জীবন বিমা
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সায়নী ঘোষের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার গয়না: সায়নীর কাছে মাত্র ৮ গ্রাম সোনা রয়েছে।
- বিলাসবহুল গাড়ি: তাঁর একটি হোন্ডা জ্যাজ (Honda Jazz) গাড়ি রয়েছে, যার বাজারমূল্য হলফনামায় প্রায় ৬ লক্ষ টাকা দেখানো হয়েছে।
- বিমা পলিসি: সায়নীর নামে মোট ৪টি জীবন বিমা বা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি রয়েছে। এর মধ্যে দুটি এলআইসি (LIC) এবং দুটি এইচডিএফসি লাইফ (HDFC Life)-এর। এই পলিসিগুলির মোট মূল্য ১১.০৩ লক্ষ টাকা।
কলকাতার ফ্ল্যাট ও বিপুল ঋণ
হলফনামা অনুযায়ী, সায়নী ঘোষের নামে কোনও কৃষিজমি, বাণিজ্যিক সম্পত্তি বা ফাঁকা প্লট নেই। তবে কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির অভিজাত এলাকা গলফ গ্রিনে তাঁর একটি ফ্ল্যাট বা বাড়ি রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৬২.৬৪ লক্ষ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯১.৮৯ লক্ষ টাকা হলেও, সায়নীর কাঁধে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দেনা। হলফনামায় তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন যে তাঁর প্রায় ৫৯ লক্ষ টাকার ঋণ বা লায়াবিলিটি রয়েছে। ২০১০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘ইচ্ছে ডানা’ টেলিফিল্ম দিয়ে কেরিয়ার শুরু করা দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ এই অভিনেত্রীর সম্পত্তি ও দায়ের এই খতিয়ানই এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।