অভিষেকের খোঁজে মমতার বাড়িতে আদালতের সমন, দেওয়ালে নোটিস সাঁটা নিয়ে তুমুল নাটক!

অভিষেকের খোঁজে মমতার বাড়িতে আদালতের সমন, দেওয়ালে নোটিস সাঁটা নিয়ে তুমুল নাটক!

কলকাতার ৩০/বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ফের নজিরবিহীন আইনি টানাপড়েন। বুধবার ত্রিপুরার খোয়াই আদালত থেকে আসা একটি সমন ঘিরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। আলিপুর আদালতের মাধ্যমে আসা এক বেলিফ বা বিশেষ কর্মী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে নোটিস দিতে আসেন। কিন্তু অভিষেক বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় আদালতের ওই কর্মী নিয়ম অনুযায়ী বাড়ির দেওয়ালে নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এই সিদ্ধান্তে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় উপস্থিত তৃণমূল কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বেলিফ এবং পুলিশের তুমুল বচসা শুরু হয়।

ত্রিপুরার পুরনো মামলায় আইনি অস্বস্তি

এই আইনি সংঘাতের মূল কারণ লুকিয়ে রয়েছে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের একটি ঘটনায়। সেই সময় ত্রিপুরায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে ছুটে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। খোয়াই থানা এলাকায় তাঁর সেই সফর ঘিরে একটি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। সেই পুরনো মামলাতেই খোয়াই আদালতের কড়া নির্দেশ ছিল, বুধবারই নোটিসটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নির্দেশ পালন করতেই কালীঘাট থানার পুলিশের সাহায্য নিয়ে অভিষেকের বাসভবনে হাজির হয়েছিলেন ওই কোর্ট অফিসার।

ড্যামেজ কন্ট্রোলে তৃণমূল এবং সম্ভাব্য প্রভাব

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাড়ির দেওয়ালে আদালতের সমন সাঁটা হলে তা রাজনৈতিকভাবে চরম আসাম্মানজনক হতো এবং জাতীয় স্তরে বিরোধীদের হাতে বড় হাতিয়ার তুলে দিত। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত আসরে নামেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর হস্তক্ষেপে ও দীর্ঘ আইনি আলোচনার পর রফাসূত্র বের হয়। দেওয়ালে নোটিস সাঁটার বদলে অভিষেকের হয়ে এক দলীয় কর্মী সই করে সেটি গ্রহণ করেন। সাময়িকভাবে চরম অস্বস্তি এড়ানো গেলেও, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল যে ভিন রাজ্যের পুরনো মামলাগুলি আগামী দিনেও রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য রাজনৈতিক ও আইনি চাপ সৃষ্টির অন্যতম কারণ হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *