ভুয়ো শংসাপত্র বিতরণে জিরো টলারেন্স, দুর্নীতির অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের মন্ত্রীর

অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ বিভাগে জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে চলা ব্যাপক দুর্নীতি রুখতে এবার কঠোর অবস্থানে রাজ্য সরকার। আদিবাসীদের পাশাপাশি অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত জনজাতিদের ক্ষেত্রেও যে বিপুল পরিমাণ ভুয়ো শংসাপত্র বিলি করা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও পূর্ত দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরি। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে যারা এই অনৈতিক কাজে যুক্ত হয়েছেন, সেইসব সরকারি আধিকারিকদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
মন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরি জানান, এতদিন ধরে যারা এই ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে পালন করা হবে। ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করার নেপথ্যে থাকা চক্রটিকে ভাঙতে রাজ্যজুড়ে দ্রুত তালিকা তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের এই দুর্নীতিতে জড়িতরা এবং এর সুবিধাভোগীরা উভয়ই কড়া নজরদারির আওতায় পড়বেন।
নড়বড়ে সেতু ও রাস্তার সংস্কারে বিশেষ নজর
অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ বিভাগের পাশাপাশি পূর্ত দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জরাজীর্ণ রাস্তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা নিয়ে বিজেপি বিধায়কদের পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলো উঠেছিল, তার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর আশ্বাস, তালিকা প্রস্তুতির পর অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নড়বড়ে সেতু ও রাস্তা মেরামতের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর হয়।