বর্ষার শুরুতেই ফুঁসছে তিস্তা, ফের কি তবে বন্যার ভ্রুকুটি!

বর্ষার শুরুতেই ফুঁসছে তিস্তা, ফের কি তবে বন্যার ভ্রুকুটি!

বর্ষার আগমনী বার্তার সঙ্গেই উত্তরবঙ্গে তিস্তা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সিকিম পাহাড়ে অবিরাম বৃষ্টি এবং গজলডোবা ব্যারেজ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়ার কারণে নদীর জল বিপদসীমা ছুঁইছুঁই। পাশাপাশি, জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে রেকর্ড প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যেখানে প্রায় এক হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, সেখানে বর্ষার প্রথম দিনেই মুষলধারে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা ও কৃষকদের উদ্বেগ

নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মেখলিগঞ্জের অসংরক্ষিত এলাকায় সাময়িকভাবে হলুদ সতর্কতা জারি করেছিল সেচ দপ্তর। যদিও বৃহস্পতিবার সকালে তা তুলে নেওয়া হয়, তবে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির অবনতি হলে ফের সতর্কতা জারি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদীর এই হঠাৎ জলবৃদ্ধিতে কপালে ভাঁজ পড়েছে তিস্তা পারের কৃষকদের। চরের জমিতে থাকা ভুট্টা ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি তা কেটে ঘরে তোলার কাজ শুরু করেছেন তারা।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

টানা বৃষ্টি ও নদীর জলস্ফীতির ফলে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নিচু এলাকাগুলোতে। এই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। নদীবাঁধগুলোর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কুটিরও বেশি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তিস্তা অববাহিকায় আরও বড় আকারে জলস্তর বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যা নদী তীরবর্তী জনপদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *