প্লেটে অন্ন নাকি মরণফাঁদ, বছরে ১৫ লক্ষ প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে দূষিত খাবার!

প্রতিদিন আমরা যে খাবার গ্রহণ করছি, তা কি সত্যিই জীবনধারণের শক্তি জোগাচ্ছে, নাকি অজান্তেই শরীরে প্রবেশ করাচ্ছে মারণ বিষ? সাধারণ মানুষের এই অসচেতনতা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্ট বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২১ সালেই বিশ্বজুড়ে দূষিত খাবার গ্রহণের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ এবং অসুস্থ হয়েছেন ৮৬ কোটি ৬০ লক্ষের বেশি। উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগেও বুনিয়াদি স্বাস্থ্যবিধি ও সঠিক খাদ্য সংরক্ষণের অভাবকে এই বিপুল মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
শিশুদের ওপর ভয়াবহ থাবা
সবচেয়ে ভীতিজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে। বিশ্ব জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ হওয়া সত্ত্বেও, মোট খাদ্যবাহিত সংক্রমণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই শিকার হচ্ছে এই শিশুরা। চিকিৎসকদের মতে, শৈশবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীর আক্রমণ সহজেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। খাদ্যজনিত কারণে সৃষ্ট তীব্র ডায়রিয়া ও জলশূন্যতা সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
রাসায়নিক বিষের নেপথ্য কারণ
সংস্থাটির রিপোর্টে উঠে এসেছে, খাদ্যজনিত মৃত্যুর প্রায় ৭৩ শতাংশের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী বিপজ্জনক অজৈব আর্সেনিক এবং ৩১ শতাংশের কারণ সীসা ও মিথাইলমার্কারির মতো ভারী ধাতু। এই বিষাক্ত উপাদানগুলো শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা ভবিষ্যতে তাদের শিখন অক্ষমতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়া বড়দের শরীরে এই উপাদানগুলো প্রবেশ করে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ক্যানসারের মতো মারণব্যাধি তৈরি করছে। আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পরিবেশ দূষণের ফলে আমাদের নিত্যকার অন্ন যে ধীরে ধীরে বিষে পরিণত হচ্ছে, এই রিপোর্ট তারই ভয়াবহ ইঙ্গিত দিচ্ছে।