মমতার হাতছাড়া হচ্ছে জোড়াফুল? ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে আইনি পথে দল ভাঙছেন বিদ্রোহীরা!

মমতার হাতছাড়া হচ্ছে জোড়াফুল? ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে আইনি পথে দল ভাঙছেন বিদ্রোহীরা!

কলকাতা: এবার কি তবে শিবসেনা বা এনসিপি-র ভাগ্যই বরণ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? আইনি পথে বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে রাজ্যের শাসক দলে। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আইনি প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দলের বিদ্রোহী শিবির। এমনকি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের নাম, প্রতীক (জোড়াফুল) এবং তহবিলের চাবি কেড়ে নেওয়ার ব্লুপ্রিন্টও তৈরি হচ্ছে।

বিদ্রোহী শিবিরের মূল অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কোনো দলীয় সংবিধান মানা হচ্ছিল না। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে একনায়কতন্ত্র চালিয়ে। এই সংবিধান বিরোধী কাজের খতিয়ান তুলে ধরে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শুধু তাই নয়, এই বিদ্রোহী তালিকায় নাম জুড়েছে সায়নী ঘোষ, মালা রায়ের মতো হেভিওয়েটদেরও। অন্যদিকে সুস্মিতা দেবও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক করে বিজেপির পথে পা বাড়িয়েছেন বলে খবর।

হাতছাড়া হবে জোড়াফুল প্রতীক? কী বলছে নিয়ম? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল ভেঙে টুকরো হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গিয়েছে বিদ্রোহীরা। এই পরিস্থিতিতে মমতার হাত থেকে প্রতীক চলে যাবে কি না, তা নিয়ে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আজ হয়তো দাবি জানাচ্ছি না, তবে কাল কী হবে বলতে পারব না। যা করব আলোচনা করেই করব।” অন্যদিকে মমতা-মনোনীত রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিষয়টিকে ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল ভাঙলে যারা সাংসদ, বিধায়ক এবং দলের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীদের সিংহভাগের সমর্থন দেখাতে পারবে, তারাই পায় আসল নাম ও প্রতীক। বাকি পক্ষকে নতুন দল হিসেবে নথিভুক্ত করতে হয়। ফলে বিদ্রোহীরা যদি নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে লিখিত আবেদন জমা দেয়, তবে জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাংলার রাজনীতিতে এই নজিরবিহীন টানাপোড়েন এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *