রথযাত্রার আগে স্নানযাত্রার মাহেন্দ্রক্ষণ! জেনে নিন এবারের দিনক্ষণ ও পুজোর বিশেষ নিয়ম

রথযাত্রার আগে স্নানযাত্রার মাহেন্দ্রক্ষণ! জেনে নিন এবারের দিনক্ষণ ও পুজোর বিশেষ নিয়ম

পুরী থেকে মাহেশ কিংবা ইসকন, রথ উৎসবের আগে দেশজুড়ে শুরু হয় জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার প্রস্তুতি। হিন্দু ধর্মে রথযাত্রার পূর্বসূরি হিসেবে এই স্নানযাত্রার গুরুত্ব অপরিসীম। পুরাণ অনুযায়ী, এই দিনটি জগন্নাথদেবের শুভ আবির্ভাব দিবস বা জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে মন্দির থেকে বনেদি বাড়ি পর্যন্ত থাকে উৎসবের আমেজ। ভক্তদের বিশ্বাস, মহাস্নানের পরেই জগন্নাথদেব অসুস্থ হয়ে পড়েন, যার ফলে পরবর্তী কয়েকদিন তিনি মন্দিরের অন্দরে নিভৃতবাসে থাকেন। এই প্রথা মেনেই শুরু হয় রথযাত্রার মূল প্রস্তুতি।

স্নানযাত্রা ও রথযাত্রার পূর্ণ তিথি

চলতি বছর জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা পড়েছে ২৯ জুন, সোমবার। পঞ্জিকা মতে, ২৮ জুন রাত ২টা ৪৬ মিনিট থেকে ২৯ জুন শেষরাত ৪টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত পূর্ণিমা তিথি বজায় থাকবে। এই বিশেষ তিথির পরপরই শুরু হবে মূল রথ উৎসব। আগামী ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে রথযাত্রা এবং ২৪ জুলাই, শুক্রবার পালিত হবে উল্টো রথযাত্রা বা পুনর্যাত্রা।

পুণ্যলাভের বিশেষ নিয়ম ও তাৎপর্য

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, স্নানযাত্রার দিন নিষ্ঠাভরে নিয়ম পালন করলে কর্মজীবনে উন্নতি ও পারিবারিক সুখ-শান্তি বজায় থাকে। এই বিশেষ দিনে ভক্তরা ভোরে গঙ্গা বা পবিত্র জলে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করেন। এরপর জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তিকে গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ, আতর, চন্দন ও কর্পূরের মিশ্রণে স্নান করানো হয়। পুজোর উপকরণ হিসেবে ১০৮টি তুলসী পাতা, গোলাপ ফুল এবং পাঁচ ধরনের ফল উৎসর্গ করা রীতি। এছাড়া, এদিন অন্তত একজন ব্রাহ্মণকে ভোজন করানো অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ভক্তি ও শুদ্ধাচারে পালিত এই উৎসবের মাধ্যমে ভক্তরা জগন্নাথদেবের কৃপালাভের প্রত্যাশা করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *