তৃণমূলের ভরাডুবি নাকি দলবদল! বাবুল সুপ্রিয়র ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। একে একে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করছেন দলটির সাংসদরা। বর্তমানে তাদের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র নয়টিতে। এমন এক টালমাটাল পরিস্থিতিতে রাজ্যসভার তারকা সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর একটি দীর্ঘ ও ইঙ্গিতপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বাবুলের পোস্টে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
ফেসবুক পোস্টে বাবুল সুপ্রিয় স্পষ্ট করেছেন যে তিনি সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে এবং রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তিনি আগামী দিনে কাজ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি, তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে অতীতে তাঁর সমালোচনা করার কথা মনে করিয়ে দিলেও কারও প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই বলে জানান তিনি। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যেভাবে অনেকে রাতারাতি দলবদল করে গেরুয়া শিবিরে ভিড়েছেন, তাকে ‘জ্ঞানপ্রাপ্তি’ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি এই তারকা সাংসদ। দুর্নীতিগ্রস্তদের জেল হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলত্যাগ ও শাসক শিবিরের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত ২০১৪ সালে বিজেপির টিকিটে সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া বাবুল ২০২১ সালে দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর তাঁর পুরোনো দল অর্থাৎ বিজেপির রাজ্য ক্ষমতায় আসায় তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ও অবস্থান স্পষ্টতই শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও ফাটলকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাবুলের এই ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা তৃণমূলে চলমান পদত্যাগের স্রোতকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে এবং বিরোধী শিবিরকে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেবে। আপাতত তিনি সমস্ত সাক্ষাৎকার এড়িয়ে শান্তি ও সঙ্গীতের মাঝে সময় কাটাতে চেয়েছেন।