সকালে লম্বা আর সন্ধ্যায় বেঁটে, শরীর কি আসলেই রোজ ছোট হয়ে যায়?

মানুষের শরীর এক অসাধারণ ও জটিল সৃষ্টি, যা নানা অদ্ভুত কার্যপ্রণালীতে পরিপূর্ণ। সাধারণত আমরা মনে করি, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের উচ্চতা সবসময় একই থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানের দাবি, দিনের শুরু ও শেষের উচ্চতায় সামান্য পার্থক্য থাকে। অর্থাৎ, সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় মানুষ যতটা লম্বা থাকে, সারাদিন পার করে সন্ধ্যায় তা কিছুটা কমে যায়। বিষয়টি অবাক করার মতো মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক সুনির্দিষ্ট ও চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক কারণ।
মেরুদণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ
আমাদের উচ্চতার এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে মেরুদণ্ড। মানুষের মেরুদণ্ড গঠিত হয় একাধিক কশেরুকা দিয়ে, যার মাঝে থাকে ‘আন্তঃকশেরুকা চাকতি’ বা ডিস্ক। এই ডিস্কগুলো জেলের মতো নরম তরলে পূর্ণ থাকে, যা শরীরে নমনীয়তা বজায় রাখতে এবং মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। সারাদিন হাঁটাচলা, দৌড়ানো বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার সময় মাধ্যাকর্ষণ শক্তি শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপের ফলে মেরুদণ্ডের চাকতিগুলো সংকুচিত হয় এবং ভেতর থেকে সামান্য তরল বেরিয়ে যাওয়ায় সেগুলো কিছুটা পাতলা হয়ে যায়। এর ফলেই দিনের শেষে মানুষের উচ্চতা ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
বিশ্রামের ভূমিকা ও প্রভাব
রাতে যখন মানুষ শুয়ে ঘুমায়, তখন মাধ্যাকর্ষণের উল্লম্ব চাপ আর মেরুদণ্ডের ওপর কাজ করে না। এ সময় মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলো পুনরায় তরল শোষণ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘স্পাইনাল ডিকম্প্রেশন’। ঘুমের এই কয়েক ঘণ্টায় শরীর দিনের বেলায় হারিয়ে যাওয়া উচ্চতা ফিরে পায়।
এই অস্থায়ী পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে বিভিন্ন শারীরিক সক্ষমতা যাচাই বা নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞগণ পরামর্শ দেন, যদি উচ্চতা পরিমাপের প্রয়োজন হয়, তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই তা করা উচিত। কারণ তখনই মানুষ তার প্রকৃত উচ্চতায় থাকে। এছাড়া, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে নভোচারীদের ক্ষেত্রেও মেরুদণ্ড অস্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হয়ে উচ্চতা দুই ইঞ্চি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা এই জৈবিক পরিবর্তনেরই এক চরম উদাহরণ।