‘কাটমানি’ ফেরতের হিড়িক! কোথাও মাথা নিচু করে টাকা ফেরাচ্ছেন তৃণমূল নেতা, কোথাও জুটল ডিম

কোচবিহার ও হাবরা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই এবার জেলায় জেলায় ‘কাটমানি’ ফেরত পাওয়ার জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন সাধারণ মানুষ। আমজনতার তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে কোথাও তৃণমূল নেতারা নগদ টাকা ফেরত দিচ্ছেন, আবার কোথাও বাধ্য হয়ে মুচলেকা লিখে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ঠিক এমনই নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল কোচবিহার থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা।
কোচবিহারের শীতলখুচি ব্লকের বড়কৈমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামাটি গ্রামে দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। সেখানকার ১৭৪ নম্বর বুথের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য বিজয় বর্মন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উপভোক্তাদের হাতে টাকা ফিরিয়ে দেন। জানা গেছে, আবাস যোজনার ৮৮ জন উপভোক্তার কাছ থেকে নেওয়া মোট প্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা এদিন তিনি ফেরত দিয়েছেন। টাকা ফেরত পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন এলাকার গরিব মানুষগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমিত্রা পাল জানান, “আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার সময় পঞ্চায়েত সদস্য আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। আজ সেই টাকা ফেরত পেলাম।” অন্যদিকে, টাকা ফেরানোর বিষয়ে পঞ্চায়েত সদস্য বিজয় বর্মন কার্যত দায় ঠেলেছেন দলের ওপর। তাঁর দাবি, “অঞ্চল নেতৃত্বের নির্দেশেই টাকা তোলা হয়েছিল। এখন বাসিন্দারা দাবি করায় তা ফেরত দেওয়া হলো।” এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি যুব মোর্চার কোচবিহার জেলা কমিটির সম্পাদক রাহুল পাল বলেন, “সাধারণ মানুষের জোরালো প্রতিবাদের জেরেই এই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে তৃণমূল।”
একই দিনে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানকার তৃণমূল কাউন্সিলার দীপক দের বাড়ির সামনে সকাল থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভ এতটাই চরমে পৌঁছায় যে কাউন্সিলারকে লক্ষ্য করে ডিম পর্যন্ত ছোড়া হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ— ড্রেন তৈরি বা দোকান ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা তুলেছিলেন ওই কাউন্সিলার। বেগতিক বুঝে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে বাঁচতে নিজের প্যাডেই সবার টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত মুচলেকা দিতে বাধ্য হন তৃণমূল কাউন্সিলার দীপক দে।