রাজপুর-সোনারপুর পুরসভায় ফের অস্বস্তি, গ্রেপ্তার কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়লেন স্থানীয়রা

তোলাবাজি ও অবৈধ নির্মাণে মদত দেওয়ার অভিযোগে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিভাস মুখোপাধ্যায় ওরফে মনুকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বুধবার গড়িয়া এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর অন্যতম সহযোগী পাপাইকেও গ্রেপ্তার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাপাইকে ব্যবহার করেই বিভিন্ন এলাকা থেকে তোলা আদায় করতেন এই কাউন্সিলর।
জনরোষ ও বিক্ষোভের মুখে জনপ্রতিনিধি
গ্রেপ্তারের পর বুধবার সন্ধ্যায় কাউন্সিলরকে নিয়ে তাঁর বাসভবন ও দপ্তরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা চড়াও হন ধৃত কাউন্সিলরের ওপর। তাঁকে ঘিরে প্রবল বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ জনতা। এক পর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং সমস্বরে ‘চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
জলা জমি ভরাট ও তোলাবাজির অভিযোগ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গড়িয়া এলাকায় জলা জমি ভরাট, প্রমোটারদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং অবৈধ নির্মাণ চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বিভাস মুখোপাধ্যায়। সরকার পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই গ্রেপ্তারির ফলে পুরসভার অন্দরে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিষয়টি নতুন করে প্রকাশ্যে এল।
সরকার পরিবর্তনের পর রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার এটিই প্রথম তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারি। সব মিলিয়ে এই নিয়ে পুরসভার মোট তিন জন কাউন্সিলর বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। এই ঘটনায় পুরসভার ভাবমূর্তি যেমন সংকটে পড়েছে, তেমনই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তোলাবাজির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।